চুয়েটে নানা আয়োজনে উদযাপিত হল ১৪ তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

Desktop2

ইনজামাম উল হক:

কালের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হবার ১৪ তম বর্ষে পদার্পণ করল, প্রকৌশল শিক্ষার দেশের অন্যতম শীর্ষ বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট )। প্রকৌশল শিক্ষা বিস্তারের উদ্দেশ্যে স্থাপিত এই প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে ১৯৬৮ সাল হতে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটিতে রূপান্তরিত করা হলেও তৈরি হয় নানা ধরণের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা । পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটির সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সরকার দেশের ৪টি বিআইটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং  বিআইটি (চট্টগ্রাম) ,১লা সেপ্টেম্বর ২০০৩ সাল থেকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে যাত্রা শুরু করে।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে চুয়েটে দিনভর নানা ধরণের কর্মসূচি পালন করা হয় । দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল রক্তদান,বৃক্ষরোপণ,আনন্দ র‌্যালি,আলোচনা সভা, প্রীতি ফুটবল ম্যাচ প্রভৃতি। উক্ত অনুষ্ঠানমালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জনাব আবদুল মান্নান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়, বৃহস্পতিবার সকালে   জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে । এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক,শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি । র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এসে শেষ হয় । পরে কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে আয়োজিত হয় বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আলোচনা সভা ।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য জনাব আবদুল মান্নান বলেন, শিক্ষার্থীদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে তৈরি করার জন্য রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে। ভালো বীজ আছে, সার আছে কিন্তু যে জমিতে ফসল ফলানো হবে সেটাকে যদি ভালোভাবে কর্ষণ করা না হয় তাহলে ভালো ফসল পাওয়া যাবে না। চুয়েটের ব্যাপারেও তেমন কথা প্রযোজ্য। এখানে আরও আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজনের মাধ্যমে বিশ্বমানের হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। চুয়েটের অবকাঠামোগতও আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। এজন্য বিভিন্ন উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

সভাপতির বক্তব্যে চুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, সেশনজট মুক্ত, অস্থিরতা মুক্ত একটি সুন্দর সুখী পরিবার হিসেবে চুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে। সীমিত বাজেটের মধ্যে উচ্চ শিক্ষা-গবেষণায় চুয়েট নানা সাফল্য লাভ করে দেশে-বিদেশে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। উচ্চ মানসম্পন্ন প্রকৌশল শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো: হযরত আলী,প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. আশুতোষ সাহা,যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো: মাহবুবুল আলম,তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূঁইয়া,স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মো: মোস্তফা কামাল। স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেজিস্টার (অতি:দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ডা: মীর মুর্তজা রেজা খান, কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো: জামাল উদ্দিন । শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ইজই বিভাগের পরশ চাকমা ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের সৈয়দ ইমাম বাকের। সঞ্চালনায় ছিলেন ইজই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রাশেদ মোঃ: মুরদ হাসান ও সিএসই বিভাগের প্রভাষক ফারজানা ইয়াসমিন। উল্লেখ্য,উক্ত অনুষ্ঠানের স্পন্সর হিসেবে ছিল কনফিডেন্স সিমেন্ট এবং চুয়েট অ্যালামনাই এসোসিয়েশন ।

০১/০৯/২০১৬ ইং