নাজিফা তাসনিম, গোলাম রব্বানীঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাপড় ধোয়ার কাজকে সহজ ও দ্রুততর করতে হলগুলোতে ওয়াশিং মেশিন সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে । চুয়েটের ৫ টি ছাত্র হল (বঙ্গবন্ধু হল,শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল,শহীদ তারেক হুদা হল,ড.কুদরত ই খুদা হল,শেখ রাসেল হল) এবং মেয়েদের ১ টি হলের (শামসেন্নাহার খান হল) জন্য মোট ১৪ টি ওয়াশিং মেশিন বরাদ্ধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আগামী ১ মাসের মধ্যে ব্যবহার উপযোগী করে মেশিন গুলো যথাযথ হল গুলোতে নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করা হবে। অন্যদিকে ছাত্রী হলের বাকি দুইটি- সুফিয়া কামাল হল এবং নবনির্মিত তাপসী রাবেয়া হলের জন্য আরো চারটি মেশিন খুব শীঘ্রই আনা হবে বলে জানায় ছাত্রকল্যাণ দপ্তর।
এদিকে ডিজিটাল সফট্ওয়্যারভিত্তিক লন্ড্রি সার্ভিসটির নাম ‘ইউর ক্যাম্পাস’। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ‘ইউর ক্যাম্পাস’ এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে উক্ত সেবাটি পেতে হলে শিক্ষার্থীকে প্রথমে নিজ নিজ মোবাইল নাম্বারের মাধ্যমে ‘ইউর ক্যাম্পাস ‘ এপে রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। এরপর ইউর লন্ড্রি অপশনে ক্লিক করতে হবে। সেখান থেকে প্যাকেজেস অপশনে গেলে বিভিন্ন ওয়াশ প্যাকেজ কেনা যাবে। ওয়াশ প্যাকেজ কেনার পর সুবিধাজনক নির্দিষ্ট সময়ে মেশিন রিজার্ভ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীরা উক্ত সেবাটি গ্রহণ করতে পারবে। প্রতিবার ওয়াশে প্রায় ৬০ থেকে ৯০ মিনিট সময়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি কাপড় ধোয়া যাবে এবং এতে খরচ হবে ৫০ টাকা। এ সময় ডিটারজেন্ট নিজেকেই সরবরাহ করতে হবে।
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা যখনই এরকম ভালো কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করি, সব সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পজিটিভ সাপোর্ট পেয়ে থাকি। যেহেতু এটি একটি ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম, তাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আশা করবো সবাই এটিকে নিজের মনে করে যত্নসহকারে ব্যাবহার করবে। এদিকে ওয়াশিং মেশিন স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরাও।
চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী নুসরাত খানম জানান, সপ্তাহ শেষে অনেক অপরিষ্কার কাপড় জমে যায় যা হাতে ধোয়া অনেক সময় ও শ্রম সাপেক্ষ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, শিক্ষার্থীদের সুবিধার্তে চুয়েট কতৃপক্ষ এত ভালো একটি উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করছেন।
বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হায়দার জানান, সপ্তাহে কাপড় পরিষ্কারের ক্ষেত্রে আমাদের যেমন কষ্ট হয় তেমন সময় সাপেক্ষ ব্যাপারও। তাই কম সময়ে ও কম খরচে যদি এমন সার্ভিস পাওয়া যায় তাহলে তা শিক্ষার্থীবান্ধব বটে।
এ বিষয়ে ইউর ক্যাম্পাসের কো-ফাউন্ডার ও চিফ রিলেশন অফিসার মো. ইস্তিয়াক উদ্দিন বলেন, চুয়েটে আমরা আগামী সাত দিনের মধ্যে মেশিনগুলো ব্যবহারের উপযোগী করে প্রস্তুত করবো৷ আমাদের টিম কাজ করছে। শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন অফার-সার্ভিসও পাবেন এই সার্ভিসের অ্যাপ থেকে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দেখে আমরা ৫ শতাংশ ফি অফ রেখেছি। এছাড়াও কোনো শিক্ষার্থী ৫, ১০, ২০টি কিংবা বেশি সংখ্যক ওয়াস কিনলে আমরা বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন অফার চালু করবো।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সার্ভিসটিতে বিভিন্ন প্যাকেজ থাকবে। এর মধ্যে সিঙ্গেল প্যাকেজ ১বার ওয়াসে ৫০ টাকা, ৫ বার ওয়াস ২০০ টাকা(পার ওয়াশ প্রাইস ৪০ টাকা), ১০ টার প্যাকেজ ৩৫০ টাকা(পার ওয়াশ প্রাইজ ৩৫ টাকা) এবং ২০টার প্যাকেজ ৬০০ টাকা(পার ওয়াশ প্রাইস ৩০ টাকা)।
‘ইউর ক্যাম্পাসের’ মুখপাত্র মিলজার রহমান চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, আমরা চেষ্টা করেছি শিক্ষার্থী তার প্রাত্যহিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়টির কিছু অংশ নষ্ট না করে যদি তা ইফেক্টিভলি ব্যবহার করে তাহলে বিষয়টি ফলপ্রসূ হয়। আমরা ঐ জায়গাটি নিয়েই কাজ করেছি। বহির্বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এই সেবা বহু আগেই শুরু হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এর দৃষ্টান্ত বিরল। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভেন্ডিং মেশিনের পর ২০২২ সালে ওয়াশিং মেশিন স্থাপনে এগিয়ে আসি। আশা করি শিক্ষার্থীরা এতে অনেক উপকৃত হবে।
উল্লেখ্য, চুয়েট ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়(রুয়েট) সহ দেশের ২২ টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ সার্ভিস প্রদান করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি।