সাঈদ চৌধুরীঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পাশকৃত শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল এবং সেটির গুগল ড্রাইভ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
গত ১৮জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজির (আইআইসিটি) অফিশিয়াল ইমেইল হতে প্রেরিত এক বার্তায় এতথ্য পাশকৃত শিক্ষার্থীদের জানানো হয়।
প্রেরিত ই-মেইলে বলা হয়, অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৪৭তম সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে ৬,৭,৮,৯,১০,১১, ১২,১৩,১৪ ও ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের মেয়াদ এক বছরের অধিক হওয়ায় উক্ত ব্যাচসমূহের শিক্ষার্থীদের চুয়েট ই-মেইল এবং ড্রাইভ স্টোরেজ সেবা বন্ধ করা হবে।
আরও বলা হয়,সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের আগামী ১ আগস্টের মধ্যে ডাটা ব্যাকআপ নিতে হবে। উক্ত তারিখের পর ৬,৭,৮,৯,১০,১১, ১২,১৩,১৪ ও ১৫তম ব্যাচের সকল প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ই-মেইল একাউন্ট নিষ্ক্রিয় থাকবে।তবে উক্ত ব্যাচ সমূহের কোন শিক্ষার্থীর কোর্স চলমান থাকলে আইআইসিটিতে তে যোগাযোগ করতে হবে।
হঠাৎ ই-মেইল বন্ধের এই ঘোষণায় দুশ্চিন্তায় পড়েন অনেক শিক্ষার্থী। ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল অনেক জায়গায় ব্যবহার করে সুবিধা পাওয়া যায়।বিশেষত যারা গবেষণা সংক্রান্ত কাজে আছেন তারা এই মেইলটি ব্যবহার করে ভালো সুবিধা পান।প্রাতিষ্ঠানিক মেইল যেকোনো জায়গায় একটা বিশ্বাসযোগ্য ডকুমেন্ট হিসেবেও কাজ করে।মেইল একদিন বন্ধ করে দেয়া হবে এটাও অনেক শিক্ষার্থী জানতো না।হঠাত এই ডিসিশন বিড়ম্বনার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ওই ঘোষণা আসার ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ১৯জুন সকালে চুয়েট আইআইসিটির সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো. তৌহিদুর রহমানের নামে একটি বার্তা পাঠানো হয়।সেখানে লিখা ছিলো, ‘আমাকে ১০০০টাকা দিলে, তার আইডি বন্ধ করা হবে না’।
এই বার্তা পাওয়ার পরেই শিক্ষার্থীরা নানান রকম মন্তব্য করেন।কেন কিভাবে এধরনের মেইল আসছে এ নিয়ে তারা চুয়েটের বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে লেখালেখি করেন।
তবে টাকা দিলে মেইল বন্ধ করা হবে না এমন বার্তাটি তৌহিদুর রহমান নিজে পাঠান নি বলে দাবী করেন তিনি। তিনি বলেন, আমার অফিশিয়াল ই-মেইলটি ব্যবহার
কেউ এটি করেছে৷ https://emkei.cz/ এই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে এটি করা হয়েছে। টাকা চেয়ে এমন কোনো বার্তা আমি পাঠাই নি।আমার নাম ব্যবহার করে যারা এটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর অভিযোগ দিয়েছি।
এর আগে ৩মে চুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইলের ড্রাইভ স্টোরেজ সীমা ২৫ জিবির মধ্যে সীমিত রাখতে শিক্ষার্থীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিলো। বলা হয়েছিলো ৩০মে’র মধ্যে ২৫ জিবির বেশি জায়গা ব্যবহার করে থাকলে সব ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে।সেসময় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, গুগল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল হিসেবে ১১৯ টেরাবাইট স্পেস ফ্রি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ড্রাইভ ব্যবহারের কারণে সেখানে ২০৮ টেরাবাইটের মতো ব্যবহার হয়ে গেছে। গুগল থেকে সেটির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। ১১৯ টেরাবাইটের বেশি জায়গা ব্যবহার করতে হলে গুগল থেকে তা কিনতে হবে।এজন্য সবাইকে স্টোরেজ লিমিটেশন করতে বলা হয়েছে।
এব্যাপারে আইআইসিটির পরিচালক আসাদুজ্জামান বলেন,পাশকৃত শিক্ষার্থীদের মেইল বন্ধ করে দেয়া হবে এটা একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত।পাশ করে গেলে তাদের চুয়েট মেইল নিষ্ক্রিয় করে দেয়া হবে। সম্প্রতি চুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক মেইলের নাম ব্যবহার করে যারা বিভিন্ন অহেতুক মেইল পাঠিয়েছে তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।