আসহাব লাবিবঃ
খাবারের অতিরিক্ত মূল্য ও বিভিন্ন অব্যবস্থাপনায় বিক্ষুব্ধ হয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) টিএসসি ক্যাফেটেরিয়ার প্রধান ফটক আটক করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ রবিবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ তারা এ পদক্ষেপ গ্রহন করে। শিক্ষার্থীরা প্রথমে একজোট হয়ে ক্যাফেটেরিয়ায় প্রবেশ করে এবং ভেতরে অবস্থানরত অন্যান্য সকল শিক্ষার্থীদের বাইরে বের করে নিয়ে আসে। এর পরপরই তারা প্রধান ফটকের দরজা বন্ধ করে সেখানে অবস্থান গ্রহন করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায় দীর্ঘদিন ধরে ক্যাফেটেরিয়ার অতিরিক্ত মূল্যে খাবার বিক্রি এবং অব্যবস্থাপনার জেরেই এ পদক্ষেপ গ্রহনে বাধ্য হয় তারা। এ ব্যাপারে চুয়েটের তৃতীয় বর্ষের ইলেকট্রিকাল ও ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী তালহা জুবায়ের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের দামগুলো আরো সহজলভ্য হওয়া উচিৎ ছিল। খাবারের দাম অনেক বেশি, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সামর্থ্যের বাইরে। তাছাড়া প্রয়োজনীয় অনেক খাবার পাওয়াই যায় না। এদিকে খাবার পানির সংকট, বেসিন ও ওয়াশরুমেও সমস্যা। তাই আমরা ক্যাফেটেরিয়ার এসব সমস্যা সমাধানে আমাদের দাবী নিয়ে আজকে এখানে দাঁড়িয়েছি।
প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাফসান বিন আলী বলেন, মনোপলি চালাচ্ছে এই ক্যাফেটেরিয়া। এখানে পাওয়া যায় বড়লোক নামীদামী রেস্টুরেন্টের মতো ফ্রাইড রাইস, চিকেন ফ্রাই,স্যুপ থেকে শুরু করে কোয়েলের মাংস পর্যন্ত। কিন্তু পাওয়া যাবে না আলু-ভর্তা, ডিমের তারকারি। একটু ভালো করে পেট পুরে খেলেই ভাতের জন্য গুনতে হয় ৩০ টাকা। শিক্ষকদের এই নিয়ে মাথা ব্যথা নেই। তারা ভুলে যান যে, এটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া।
শিক্ষার্থীদের ফটক আটকের কিছুক্ষণের মধ্যেই চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বরত শিক্ষকবৃন্দ ঘটনাস্থলে আসেন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে আলাপ আলোচনা করেন। এসময় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবিগুলো পেশ করে এবং ক্যাফেটেরিয়ার খাবারের জন্যে একটি সম্ভাব্য মূল্য তালিকা উপস্থাপন করেন।
পরবর্তীতে শিক্ষকদের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে তারা ক্যাফেটেরিয়া পরিত্যাগ করেন। ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম এ ব্যাপারে বলেন, “শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদের আলাপ আলোচনা হয়েছে। ওদের যৌক্তিক সকল দাবি যাতে পূরণ হয় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করবো। ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আশাকরি অতি শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে। খাবারের দামসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধানের ব্যাপারেও আমরা প্রচেষ্টা চালাবো। প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের সাথে আবারো বসে আমরা এই বিষয়গুলো আলোচনা করবো।”
উল্লেখ্য যে খাবারের অতিরিক্ত মূল্যের পাশাপাশি ক্যাফেটেরিয়ার পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ, খাবারের পর্যাপ্ততা, ইন্টারনেট কানেকশন, কর্মচারীদের ব্যবহার সহ নানান বিষয়ে শিক্ষকদের সাথে আলোচনা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ।