আব্দুল্লাহ আবির:
৪-৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে যখন কিনা চাকরি জীবনে প্রবেশের পালা,বাংলাদেশের বিশাল একটি সংখ্যার শিক্ষার্থীরা তখন আফসোসের আগুনে পুড়তে থাকে নানা কারণে! তবে বেকারত্ব কিংবা পছন্দের চাকরি না পাওয়া- এইসব হতাশার পিছনে যে কারণ টা অনস্বীকার্য সেটা হচ্ছে বিশেষ কিছু স্কিল বা দক্ষতা অর্জন না করা, যা কিনা প্রচন্ড প্রতিযোগিতার এই যুগে হয়ে উঠতে পারত শক্তিশালী ঢাল।
আজ লিখব তেমনি কিছু বিশেষ দক্ষতা নিয়ে, যার হাতে খড়ি হওয়া উচিৎ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের একদম শুরু থেকেই!
১.পাওয়ারপয়েন্ট: পাওয়ারপয়েন্ট এর নাম শুনো নি এমনটা হওয়া অসম্ভব। এই সফটওয়্যার এর মূল কাজ প্রেজেন্টেশন তৈরি করা। তোমার আইডিয়া/চিন্তাভাবনা মানুষের কাছে ভিজ্যুয়ালি প্রেজেন্ট করাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ারপয়েন্ট এ দক্ষ হওয়ার মাধ্যমে তুমি তোমার দক্ষতার ঝুলিতে যুক্ত করতে পার বেশ বড়সড় একটা পয়েন্ট! বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তোমাকে অনেক গুলো প্রেজেন্টেশন এমনিতেই দিতে হয়, এছাড়া বিভিন্ন কম্পিটিশনে তুমি পাওয়ারপয়েন্টে দক্ষ থাকলে অনেক এগিয়ে থাকবে। তাই আমার সর্বপ্রথম পরামর্শ থাকবে সবাই অবশ্যই এবং অবশ্যই পাওয়ারপয়েন্ট শিখে ফেল, যদি ব্যাসিক পারো তবে এডভান্সড শিখতে থাক এবং হয়ে যাও একেবারে দক্ষ!
২.গ্রাফিক্স ডিজাইন: বর্তমানের খুব মৌলিক একটি স্কিল। প্রফেশনাল গ্রাফিক্স ডিজাইনার না হলেও এখন কম বেশী সবারই গ্রাফিক্স ডিজাইনের প্রয়োজন হয়। মূল ব্যাপার গুলো যদি তুমি নিজেই পার তাহলে ছোটখাটো কাজ নিজেই করে নিতে পারবে।পাওয়ারপয়েন্ট দিয়ে পোস্টার ডিজাইন থেকে শুরু করে মোটামুটি সব কাজই করে নিতে পারো,তবে আমার পরামর্শ থাকবে ক্যানভা শিখে ফেলা। ক্যানভা এখন অনেক জনপ্রিয় একটি ডিজাইনিং টুল,প্রায় সব ধরনের মৌলিক ডিজাইন ক্যানভা নিয়ে করে ফেলা যায়। আর ক্যানভাতে টেমপ্লেট থেকে যেকোন ডিজাইন নিজের মত বানিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায় নতুন আগ্রহীদের জন্য বেশ সুবিধা হয়। কেননা তুমি যত বেশি ডিজাইন দেখবে তোমার ডিজাইনিং এর দক্ষতা তত বেশী উন্নত হবে। আর যদি পেশাদার গ্রাফিক্স ডিজাইনার হতে চাও তুমি ইলাস্ট্রেটর শিখে নিতে পারো। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাবেই গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের কিন্তু বেশ কদর আছে,তাই ডিজাইন শিখে ফেলা কিন্তু বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
৩.কেইস সলভিং কম্পিটিশন: অনেক আগ্রহপূর্ণ একটা কম্পিটিশন। সংক্ষেপে বললে তোমাকে কোন একটা সমস্যা দেয়া হবে আর তুমি সেটার সমাধান উপস্থাপন করবে তোমার প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে। অনেক গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাবসহ অনেক প্রতিষ্ঠান কেস সলভিং কম্পিটিশন আয়োজন করে থাকে। তাই যাদের আগ্রহ আছে কিভাবে কেইস সলভ করতে হয়,কিভাবে কেইস সলভ এর প্রেজেন্টেশন রেডি করতে হয় শিখে নিতে পারো। কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করার আগে ইতিমধ্যে হয়ে যাওয়া প্রতিযোগিতার সমস্যাগুলো সমাধান এর চর্চা করতে পারো।
৪.কমিউনিকেশন স্কিল/পাব্লিক স্পিকিং: কমিউনিকেশন স্কিল নিয়ে মোটামুটি সবাই কথা বলে।কিন্তু আমরা অনেক সময় বুঝতে পারিনা ঠিক কোন জিনিসটা আমি শিখার চেষ্টা করব। তাই একদম সুনির্দিষ্টভাবে বললে পাব্লিক স্পিকিং শিখো। আমি একটা ব্যাপার বিশ্বাস করি,তুমি তোমার বর্তমান দক্ষতাগুলোর সাথে পাব্লিক স্পিকিং যোগ করতে পারলে জীবনে অন্তত দশগুণ এগিয়ে যাবে। প্রেজেন্টেশন দিতেও তোমাকে অনেক উপকার করবে।
৫. বই পড়ো,পডকাস্ট শুনো। বই পড়া প্রোডাক্টিভ কাজগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ। যাদের পড়তে একটু কম ভালো লাগে তোমার পছন্দের ধাঁচ অনুযায়ী পডকাস্ট শুনতে পারো। ইংরেজিতে অনেক ভালো ভালো পডকাস্ট চ্যানেল আছে, ইংরেজি পডকাস্ট শুনলে তোমার ইংরেজিতে দক্ষতাও বাড়বে।
৬.প্রোগ্রামিং শিখতে পারো যদি তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কোর্সে থাকে।
৭.অবশ্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্লাব ও অর্গানাইজেশনে যুক্ত থাকবে। ক্লাবিং তোমাকে সবার সাথে যোগাযোগ সৃষ্টি করতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি তুমি অর্গানাইজিং ,ম্যানেজমেন্টসহ অনেক বাস্তবিক দক্ষতা শিখতে পারবে। আমি চুয়েটে ভর্তির আগেই চুয়েটে কোন কোন ক্লাব আছে সবগুলোর লিস্ট বানিয়েছিলাম।
লিস্ট ধরে ধরে সব ক্লাবের গ্রুপে জয়েন করে দেখবে কোন ক্লাব কি কি করে, তোমার আগ্রহ এবং চাহিদা এর সাথে মিলিয়ে এক বা একাধিক ক্লাব নির্বাচন করবে।
৮.নেটওয়ার্কিং বা যোগাযোগ এর একটা স্প্রেডশিট বানাও। নেটওয়ার্ক এমন একটা ক্ষমতা যা তোমাকে প্রতিনিয়ত অনেক সুযোগ তৈরি করে দিবে।তুমি বুঝতেও পারবে না কোন নেটওয়ার্ক কখন কি সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে নেটওয়ার্কিং গোছানভাবে করা উচিত,তার জন্য একটি গুগল শিট ব্যবহার করবে। যেকোন মানুষের সাথে পরিচিত হলে তাদের সম্পর্কে লিখবে,তাদের ঠিকানা,মোবাইল নাম্বার,লিংকডইন আইডি,ইমেইল সহ যাবতীয় ইনফরমেশনের সাথে তারা কোন কাজে দক্ষ,কিসের সাথে যুক্ত এসব ও যুক্ত করে রাখবে।
পাশাপাশি অন্য একটা ট্যাবে তোমার বাছাইকৃত মানুষগুলোর তথ্য যুক্ত করবে যাদের সাথে তুমি যোগাযোগ তৈরি করতে চাও।
বিশ্ববিদ্যালয় অনেক হতাশাপূর্ণ আবার অনেক রোমাঞ্চকর একটা জায়গা।শুধুমাত্র পড়াশোনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সীমাবদ্ধ না।
এটা গোটা আলাদা একটা জগৎ, যেখানে শেখার কোন শেষ নেই। সকলের জন্য শুভকামনা রইল!