আতাহার মাসুম তারিফঃ
গতিশীল ভূমিকম্পের কারণে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির মধ্যে চীন একটি,যেটি ভৌগলিকভাবে নানান ভূখণ্ডে বিস্তৃত। ১৯৫০ সাল থেকে বিভিন্ন দেশের প্রচেষ্টার পরও বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে অক্ষম।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, পৃথিবীর নিকটবর্তী পরিবেশে সিসমো-ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক বিঘ্ন পর্যবেক্ষণের উপর আরও বেশি মনোযোগ নিবদ্ধ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে , ভূমিকম্পের ঠিক আগে পৃথিবী পৃষ্ঠের পাথরে পাথরের ঘর্ষণটি একটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ সৃষ্টি করে যা বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে এবং পৃথিবীর ভূত্বকের আন্দোলন চৌম্বক ক্ষেত্রের লাইনগুলিকে মোচড় দেয়। কিন্তু এই ধরনের ঘটনাগুলি অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং আরও গবেষণামূলক হওয়া দরকার।
মহাকাশ গবেষণা ও ভূমিকম্প পূর্বাভাসকে আরও তৎপর করতে গত ২রা ফেব্রুয়ারি,২০১৮ চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় গনসু প্রদেশের জুইকান স্যাটেলাইট লঞ্চ সেন্টার থেকে চীন একটি স্বনির্ভর পরীক্ষামূলক সিসমো-ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্যাটেলাইট চালু করেছে।
চীনের ভূমিকম্প প্রশাসন (সিইএ) দ্বারা তৈরি এবং সিএনএইচ স্যাটেলাইট কোম্পানি, চীন একাডেমি অব স্পেস টেকনোলজির প্রযুক্তি বিভাগ দ্বারা উপগ্রহটির অর্থায়ন করা হয়।
চীনের পূর্ব হান রাজবংশের বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী,ভূগোলবিদ এবং পণ্ডিত ‘ঝাংহেন’ যিনি ১৩২ বছর বয়সে প্রথম সিসমোস্কোপ আবিষ্কারের মাধ্যমে ভূমিকম্পের গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাঁর নামানুসারে উপগ্রহটির নামকরণ করা হয়েছে “ঝাংহেং-১”।
‘ঝাংহেং-১’ উপগ্রহটি চীনের মূল ভূখন্ডে, চীনের ভূমি সীমান্তের বাইরের ১০০০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং দুটি প্রধান বৈশ্বিক ভূমিকম্প বেল্টের উপর নজর রাখবে।
চীনে ৬মাত্রার উপরের ভূমিকম্পের সাথে যুক্ত ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ডেটা সংগ্রহ করে। এছাড়াও চীন এবং তার পার্শ্ববর্তী বিশ্বের কাছাকাছি পরিবেশে প্রায় ৭মাত্রার উপরের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ব্যাঘাতের নিদর্শন সনাক্ত করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। ভূমিকম্পের ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রভাব এবং ভূমিকম্পের পরিমাপের জন্য ছয়টি যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে উপগ্রহটিতে।
চীন ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (সিএনএসএ) এর সিনিয়র কর্মকর্তা জাও জিয়াং বলেন,‘ঝাংহেং-১’ এর প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল পাঁচ বছর। সংগৃহীত তথ্য ভূমিকম্পের পূর্বাভাস অনুসন্ধানে সহায়তা করবে কিন্তু ভূমিকম্পের সরাসরি পূর্বাভাসের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। তবে ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বাভাস সিস্টেমের গবেষণা ও প্রযুক্তিকে সহজতর করতে অনেকটা সহায়তা করবে। এছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাস, মহাকাশ এবং অনুসন্ধানীয় যোগাযোগ,পদার্থবিদ্যা এবং ভূ-পদার্থ গবেষণার জন্য তথ্য সেবা প্রদান করবে।
‘ঝাংহেং-১’ এর সাথে চীনের প্রথম ব্যক্তিগত স্যাটেলাইট ‘ফেংমানিয়ু-১’ ও মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল ,যা ভ্যান্টন রিয়েল এস্টেটের চেয়ারম্যান ফেং লুনের মালিকানাধীন। এটি বিশ্বের প্রথম প্যানোরামিক-দৃশ্য উপগ্রহ। একটি ফোর-কে হাই-ডেফিনিশন প্যানোরামিক ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত এবং ৩৬০ ডিগ্রী এইচডি ফটোগ্রাফের ফটোগ্রাফ সরবরাহ করতে সক্ষম।
চেয়ারম্যান ফেং লুনের এর মতে, উপগ্রহটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সীমানাকে আরো প্রসারিত করার জন্য ব্যবহার করা হবে কারণ ব্যবহারকারীরা উপগ্রহ থেকে সরাসরি ছবি এবং অডিও পেতে সক্ষম হবেন। এছাড়াও মহাকাশ সম্পর্কে শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্য এবং উপগ্রহের পাঠানো সংকেতগুলির উপর ভিত্তি করে পাঠ তৈরির মাধ্যমে শিক্ষা সংস্থার সাথে সহযোগিতা করবে।
তথ্যসূত্রঃ CGTN,nasaspaceflight
তারিখঃ ২/১/১৯


