চুয়েটে আজ থেকে শুরু হলো তিনদিনব্যাপী উৎসব ‘‘সিএসই ফেস্ট ২০২৫’’

ইবাদ হোসেন:-

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আজ থেকে শুরু হয়েছে তিনদিনব্যাপী প্রযুক্তি উৎসব “সিএসই ফেস্ট ২০২৫”। আজ ১১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের উদ্যোগে এ উৎসব আয়োজিত হচ্ছে বলে জানা যায়।

প্রথমে অত্র বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে এক আনন্দ র‌্যালী আয়োজিত হয়। এরপর কেক কেটে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইইবি), চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম এবং ডেলিনিয়েট-এর ফুলস্ট্যাক টেক লিড আরাফাত হোসাইন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিএসই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. প্রণব কুমার ধর। সঞ্চালনায় ছিলেন সিএসই চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আবতাহী কবির ও সমন্বিতা সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, “আধুনিক বিশ্বে প্রযুক্তিকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন চিন্তাই করা যায় না। ভবিষ্যতের উন্নয়ন যাত্রায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররাই হবে অন্যতম শক্তি। আমরা এখন এমন এক যুগে আছি, যেখানে প্রযুক্তি শুধু একটি খাত নয়, বরং সমগ্র মানব সভ্যতার চালিকাশক্তি। আধুনিক শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে বিনোদন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সফটওয়্যার, ডেটা ও অ্যালগরিদম অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও দ্রুত ও শক্তিশালী করছে।”

চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আলী ইমরান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে চুয়েটনিউজ২৪-কে বলেন, “এ উৎসবকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রতিযোগিতা গুলো শুধু প্রতিযোগিতা নয়; এগুলো শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিখাত ও একাডেমিক জ্ঞানের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করবে। পাশাপাশি চুয়েটের প্রযুক্তিবান্ধব সংস্কৃতিকে জাতীয় পরিমণ্ডলে তুলে ধরতেও এসব আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।”

উল্লেখ্য, তিনদিনব্যাপী এ উৎসবে থাকবে নানাধরনের প্রযুক্তিভিত্তিক আকর্ষণীয় আয়োজন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা (আইইউপিসি), ন্যাশনাল ড্যাটাথন, মাইক্রো-ওপস হ্যাকাথন, টেকনিক্যাল টক, সেমিনার এবং জব ফেয়ার। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন মিনি-গেমস, নেটওয়ার্কিং কর্নার ও ফটোবুথ।