ব্রেকিং নিউজ

চুয়েটের হলে আটক, কুয়েটের সেই স্যুট-ব্যুটেড চোর

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বঙ্গবন্ধু হল থেকে চোর সন্দেহে একজনকে হাতেনাতে আটক করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আজ শুক্রবার (৬মার্চ) দুপুর দেড়টা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলে এমন ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে লোকটি নিজেকে মারুফ হোসেন (৩৯) নামে পরিচয় দেন।

জুমার নামাযের সময়ে লোকটি আবাসিক হলে প্রবেশ করে বিভিন্ন তলায় ঘুরাঘুরি করে হলের বি-ব্লকের ৩০৬ নং কক্ষে ঢুকে পরে। তখন উক্ত কক্ষের একজন আবাসিক ছাত্রকে উল্টোপাল্টা তথ্য দিলে শিক্ষার্থীটির মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী বিদ্যুৎ রায় জানান, লোকটি দরজা খোলা দেখে এবং রুমে কেউ নাই মনে করে তার সাথে থাকা ব্যাগ নিয়ে আমার কক্ষে ঢুকে পড়ে। আমার বেড দরজার পেছনে হওয়ায় সে আমাকে খেয়াল করেনি। আমি সাথে সাথে কাকে চাই,কার কাছে আসছেন এমন প্রশ্ন করলে সে প্রত্যুত্তরে বলে অনিকের কাছে আসছে। ওর রুম নং কি ৪০৬? এই বলে লোকটি বাইরে চলে যায়। এর পর আমি তার পিছু নিই,দেখি লোকটি ৪০৬ নং রুমে না গিয়ে,নিচের তলায় যাচ্ছে এবং যেসব রুমের দরজা খোলা সেসব রুমে ঢোকার চেষ্টা করে আর সাথে মোবাইলে কারো সাথে কথা বলার ভান ধরে কানের সাথে মোবাইলটি লাগিয়ে রাখছে। কিন্তু যাওয়ার সময় সে বারবার সামনে-পিছনে ঘুরে ঘুরে থাকাচ্ছে। এরপর হলের গেটে আমরা দু-তিন জন বন্ধুদের সাথে নিয়ে লোকটিকে স্বাভাবিক জিজ্ঞাসা করলে সে বিভিন্ন ভুল তথ্য দিতে থাকে। তখনই সে যে চুরি করতে আসছে তা আমরা বুঝে যাই তখন তাকে আটক করে স্যারদের জন্য অপেক্ষা করি।

সম্পূর্ণ বিষয়টি সম্পর্কে জানার জন্য বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন- হলের কেয়ারটেকার কাশেম আমাকে কল করে বলে যে একজন আগন্তুককে হলের শিক্ষার্থীরা চোর সন্দেহে আটক করে রেখেছে। এরপর আমি চুয়েট পুলিশ ফাঁড়ির প্রধানকে কল করে বিষয়টি অবহিত করি। পরে পুলিশ আসলে কোনপ্রকার মারধর ব্যতীত লোকটিকে শিক্ষার্থীরা সহ লোকটিকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।

উল্লেখিত ঘটনায় কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে পৃথক পৃথকভাবে নিশ্চিত করেন আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ কেফায়েত উল্লাহ।

এদিকে চোরের কাছে পাওয়া কাঁধব্যাগেটিতে তিনটি মোবাইল ফোন,একটি ধারালো ছুরি,ভিন্ন ভিন্ন নামের পাঁচটি ডেবিট কার্ড, রডের ছোট অংশ, স্যানগ্লাস ও ম্যানিব্যাগসহ টাকা পেয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্যঃ গত বছরের ১লা ফেব্রুয়ারী (শুক্রবার) কুয়েটের ড.এম এ রশিদ হল থেকে অভিনব কায়দায় ল্যাপটপ চুরির সিসিটিভি ফুটেজের সাথে লোকটির চেহারার যথেষ্ট মিল খুঁজে পান চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।