ব্রেকিং নিউজ

২০১৮ সালে নোবেল পেলেন যাঁরা

সৈয়দ তাহমিদ হোসেনঃ

১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ঐ বছর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে বিভিন্ন বিষয়ের জন্য নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সুইডিশ একাডেমির সদস্যদের যৌন কেলেঙ্কারি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার কারণে এবছর সাহিত্যে কাউকে পুরস্কার দেয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত মোট ১২ জন ব্যক্তি এবছরের নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন; যাদের মধ্য রয়েছে জাপানী ১ জন, ফরাসী ১ জন, কানাডীয় ১ জন, মার্কিন ৪ জন, ইংরেজ ১ জন, কঙ্গোর ১ জন, ইরাকী ১ জন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলঃ

ক্যান্সার চিকিৎসায় কীভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে কাজে লাগানো যায় তার পদ্ধতি আবিস্কার করে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ২০১৮ সালের নোবেল পুরস্কার জিতে নেন দুই বিজ্ঞানী; তারা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের জেমস পি. এলিসন এবং জাপানের তাসুকু হনজো। ক্যান্সারের কোষগুলিকে মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দ্বারাই আক্রমণ করে প্রতিহত করার পদ্ধতি আবিস্কার করা এই দুই বিজ্ঞানী পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনার ভাগাভাগি করে নেবেন।

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলঃ

লেজার গবেষণায় অবদানের জন্য তিনজন বিজ্ঞানীকে ২০১৮ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদাণ করা হয়। তাঁরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থার অ্যাশকিন, ফরাসী জেরার মুরু এবং কানাডার ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড।চোখের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ছোট ছোট কণা, পরমাণু, ভাইরাস ও অন্যান্য জীবন্ত কোষ ধরার অপটিক্যাল টুইজারস আবিষ্কারের জন্য আশকিন পাবেন পুরস্কারের অর্ধাংশ। অন্যদিকে, লেজার রশ্মিকে প্রসারিত ও বিবর্ধিত করে পুনরায় সংকুচিত করার মাধ্যমে সবচেয়ে তীব্রতা সম্পন্ন ও শক্তিশালী লেজার পালস সৃষ্টি করায় মৌর এবং ডোনা মোট পুরস্কারের অবশিষ্ট অর্ধেক অর্থ ভাগাভাগি করে নেবেন।

রসায়নঃ

বিবর্তনবাদের ধারণা গবেষণাগারে প্রয়োগের মাধ্যমে নতুন ধরনের রাসায়নিক তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্প গড়ার পথ দেখিয়ে রসায়নের নোবেল জিতে নিয়েছেন তিন বিজ্ঞানী।

পুরস্কারপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড ও জর্জ পি স্মিথ এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার। এনজাইমের বিবর্তন নিয়ে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে ফ্রান্সেস এইচ আরনল্ড অর্ধেক এবং অ্যান্টিবডি ও পেপটাইডের ধাপ প্রদর্শন করার জন্য যৌথভাবে বাকি অর্ধেক পুরস্কারের জন্য স্যার গ্রেগরি পি উইন্টার ও জর্জ পি স্মিথের নাম ঘোষণা করা হয়।

শান্তিতে নোবেলঃ

নোবেল জয় করে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ইরাকের ইয়াজিদি মানবাধিকারকর্মী নাদিয়া মুরাদ।নোবেলের ইতিহাসে তিনিই প্রথম ইরাকি নারী। ২০১৪ সালের আগস্টে আইএস জিহাদিরা নাদিয়াদের গ্রামে ঢুকে পড়ে। এরপর তারা গ্রামের নারী-পুরুষদের একটি স্কুলে আটক করে। সেখানে পুরুষদের গুলি করে হত্যা করে নারীদের বন্দী করে জোরপূর্বক শ্রম ও যৌনদাসী হতে বাধ্য করে। আইএস অপর একটি পক্ষের কাছে যৌনদাসী হিসেবে মুরাদকে বিক্রি করে দেয়। এরপর সিরিয়ান, ইরাকি, তিউনিসিয়ান ও ইউরোপিয়ান আইএস জঙ্গিদের নিষ্ঠুর লালসার শিকার হতে হয় তাকে। যন্ত্রণায় কেটেছে তার প্রতিটি মুহূর্ত। এর তিন মাস পর পালিয়ে আসেন তিনি। ২০১৫ সালে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সামনে তুলে ধরেছিলেন নিজের ভয়ানক অভিজ্ঞতা। আইএসের হাতে বন্দী থাকা অবস্থায় তার তিন মাসের অভিজ্ঞতা ছিল ভয়ঙ্কর।

এ ছাড়া ধর্ষণকে যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও তিনি কঠিন ভূমিকা পালন করেন। এই অবদান তাকে নোবেল পুরস্কার এনে দেয়।

চলতি বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতে নিয়েছেন অপর ব্যক্তি কঙ্গোর চিকিৎসক ডেনিস মুকভেগে। তিনিও গোটা বিশ্বে যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে সোচ্চার আওয়াজ তোলার জন্য এই স্বীকৃতি পেলেন। প্রায় দুই দশক ধরে যুদ্ধবিদ্ধস্ত কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের যৌন সহিংসতার শিকার নারীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি তাদের ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নজনিত মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করে আসছেন ডেনিস মুকভেগে। ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কিভুতে এক হাসপাতাল গড়ে তোলেন। সেখানে ধর্ষণের শিকার নারী, শিশু এমনকি কয়েক মাস বয়সী দুগ্ধপোষ্যদেরও চিকিৎসা করেছেন তিনি।

অর্থনীতিতে নোবেলঃ

বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধিসহ মৌলিক ও জরুরি বিষয়গুলো তুলে ধরার নকশা পদ্ধতিতে বিশেষ অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার জিতলেন দুই মার্কিনি। তারা হলেন— উইলিয়াম ডি নরডাস ও পল এম রোমার। ৮ অক্টোবর, সোমবার ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম ডি. নরডাস ও নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের পল এম. রোমারের নাম ঘোষণা করে দ্য রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

৯ মিলিয়ন সুইডিশ ক্রোনার পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেবেন তারা।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া ও বাংলাদেশ প্রতিদিন

তারিখঃ
১৬ অক্টোবর ২০১৮