ব্রেকিং নিউজ

সমস্যায় জর্জরিত চুয়েট ক্যান্টিন; মালিকপক্ষের দোষারোপ প্রশাসনের উপর

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রধান তিনটি ক্যান্টিন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। খাবারের নিম্নমান, রান্নার অনুপোযুক্ত পরিবেশ, ফিল্টারবিহীন পানি, উচ্চ মূল্য ইত্যাদি বিষয়ে অভিযোগ যেন নৈমিত্তিক হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যান্টিন ১ ও ২ এ অধিকাংশ চেয়ার ভাঙ্গা, পাশাপাশি রান্নাঘরের পরিবেশ সেঁতসেঁতে ও নোংরা, বিশুদ্ধ পানির জন্য নেই কোন ফিল্টার।

ক্যান্টিন ২ এ এই টেবিলেই তৈরি হচ্ছে রুটি

এ বিষয়ে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আশফাক জাহান তানজিম বলেন, চুয়েটের ক্যান্টিন গুলোতে খাবার মানে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। বসার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ আসন নেই। এর মধ্যে অনেক গুলো ভাঙা! এছাড়া ক্যান্টিনে নিরাপদ খাবার পানির অভাব রয়েছে। সরবরাহকৃত পানি পান করে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা ব্যাধির শিকার হতে পারে।

ক্যান্টিন ১ এ এখান থেকেই খাবারের পানি সংগ্রহ করা হয়

৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ক্যান্টিনগুলো মনে হয় নামমাত্র রাখা হয়েছে। বৃষ্টির দিন ১ নং ক্যান্টিনে পানি পড়ে, প্লেট ও জগে গাদ জমে থাকে, দেখলে খাবারের রুচিও আসেনা ।একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের এ অবস্থা মেনে নেয়া যায়না।

ক্যান্টিন ২ এর পেছনে খোলামেলা পরিবেশেই কাটা হচ্ছে মাংস

এদিকে ক্যান্টিনগুলোতে খাবারের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফসান জনি রিসান বলেন অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় চুয়েট ক্যান্টিনে খাবারের মান হিসেবে দাম একটু বেশিই।

দুপুরে ক্লাসের মধ্যবর্তী বিরতিতে শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অধিকাংশ ছাত্রী ৩ নং ক্যান্টিন ব্যবহার করেন। শিক্ষক শিক্ষিকাদের জন্য পর্যাপ্ত আসন থাকলেও ছাত্র ছাত্রীদের জন্য তাঁদের উপস্থিতির তুলনায় পর্যাপ্ত আসন নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া আলম বলেন, ৩নং ক্যান্টিনে মেয়েদের সুবিধা বেশি বলে সবসময় সেখানে বেশিরভাগ মেয়েরা খাবার খেতে যায়।কিন্তু মেয়েদের জন্য ক্যান্টিনে আলাদা জায়গা তো নেই ই, তার উপর সামান্য বসার যেই জায়গা আছে তাতে প্রায়ই বসার সুযোগ পাওয়া যায়না।

এদিকে ক্যান্টিনের মালিকগণ এসব অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করছেন। তাদের পাল্টা অভিযোগ চুয়েট প্রশাসনের উপর।

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ডাইনিং ও রান্নাঘর এত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অথচ ক্যান্টিনের অভ্যন্তরীণ নোংরা কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ক্যান্টিন ২ এর মালিক মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা তো স্যাররা করবেন, আমরা তো করবোনা। এ নিয়ে স্যারদের কাছে অনেক অভিযোগ করা হয়েছে অথচ স্যাররা কোন ব্যবস্থা নেননি।

অতিরিক্ত দামের ব্যাপারে জানতে চাইলে ক্যান্টিন ৩ এর মালিক আমাতুর রহিমের পক্ষ থেকে তাঁর স্বামী বলেন, এখানে খাবারের দাম যেমন বেশি তেমন মানও অনেক ভালো। আমাদের স্টুডেন্ট এর পাশাপাশি স্যারদের কথাও চিন্তা করতে হয়, কারণ তাঁরাও এখানে আসেন। ক্যান্টিনের এ পর্যন্ত যা করা হয়েছে সব আমাদের নিজ খরচেই করা হয়েছে , কোন খরচ আমাদের দেয়া হয়নি।

এদিকে শিক্ষার্থীদের অনেকদিন থেকে পড়ে থাকা বকেয়া বিল ও খাবার খেয়ে টাকা না দেওয়াকেও বড় সমস্যা হিসেবে দেখছেন তারা।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়েট ছাত্রকল্যাণ উপ পরিচালক মোহাম্মদ তারেকুল আলম বলেন, পুরাতন ক্যান্টিনগুলো ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে। নতুন যে বিল্ডিং টা হচ্ছে ওখানে সেগুলো শীফট করবে। এজন্য আপাতত ঐ ক্যান্টিনগুলোতে বরাদ্দ দিচ্ছেনা। তারপরেও যেহেতু অভিযোগ এসেছে, সুতরাং এ ব্যাপারে ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের সাথে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানের ব্যবস্থা নেয়া হবে।