ব্রেকিং নিউজ

শুভ জন্মদিন ‘চুয়েট সাংবাদিক সমিতি’

আতাহার মাসুম তারিফঃ

সময়টা ১৬ ডিসেম্বর,২০০৬ সাল। সেদিন মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিতে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক। সাংবাদিকদের কোন সংগঠন না থাকায় শুধু সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ফুল দিতে গিয়ে সেদিন কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার সম্মুখীন হন সাংবাদিকরা। ওইসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন রাতেই জরুরী সভায় বসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণ সাংবাদিক। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের স্বার্থ রক্ষায় একটি সংগঠন তৈরীর আলােচনা করা হয়। এতে সর্বসম্মতিক্রমে ‘চুয়েট সাংবাদিক সমিতি’ নামের একটি সংগঠন তৈরী করা হয়।

আজ সেই চুয়েট সাংবাদিক সমিতির ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। শুভ জন্মদিন !

পাহাড়ে ঘেরা চট্টগ্রামের এই কোণার বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আত্মচিৎকার,আন্দোলন একসময় উচ্চপদস্থ প্রশাসনের কর্ণগোচর হত না। সপ্তাহখানেক আন্দোলনের পরও জাতীয় মিডিয়ার নিশ্চুপ ভূমিকা কিছু তরুণ প্রকৌশলীকে খুবই ভাবাতো।

চুয়েটে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শত প্রতিবন্ধকতার মাঝে কিছু আলোর বিচ্ছুরণ। প্রকৌশল বিদ্যার মতো ব্যস্ততম সময়সূচিতে সিলেবাসের পাঠ চুকিয়ে সাংবাদিকতা করা যেনো এক নামমাত্রই বিলাসিতা। তবু দমে যায় না কিছু তরুণ, যাদের লেখনীতে প্রস্ফুটিত হয় চুয়েট। ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বদরবারে।

প্রতিষ্ঠালগ্নের সাংবাদিকতা খুবই প্রতিকূল ছিল বর্তমানের তুলনায়। ছিল না কোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ছিল না কোনো ইন্টারনেট সুবিধা। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ল্যাব-ক্লাস চুকিয়ে চট্টগ্রাম শহরে পত্রিকা অফিসে গিয়ে মূদ্রণ করে সংবাদ জমা দিয়ে আসতে হত। সে সময়কার দূর্বিষহ সাংবাদিকতা গুলোর কথা ভাবতেই যেন গা শিউরে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির অঢেল প্রসারে সাংবাদিকতা অনেকটা সহজলভ্য হয়ে গেছে। তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে রুমে বসেই মেইলের মাধ্যমে সংবাদ পাঠিয়ে দেয়া যাচ্ছে দেশের নানা প্রান্তের নানা যোগাযোগমাধ্যমে।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার মাধ্যমে গণতন্ত্র চর্চা , মুক্তবুদ্ধি,  রাজনীতি, অর্থনীতি , আন্তর্জাতিক বিষয় শিল্প-সংস্কৃতি সহ নানান বিষয়ে জানার সুযোগ রয়েছে। সমমানের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে ছাড়িয়ে ধীরে ধীরে এই সংবাদচর্চা দিনকেদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চুয়েট সাংবাদিক সমিতিকে অনুসরণ করে বর্তমানে দেশের অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সাংবাদিকতা চর্চার আবির্ভাব ঘটছে।

প্রকৌশল শিক্ষার মতো স্নায়ুবিক পড়াশোনার পর সাংবাদিকতা ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন খুব কম লোকেই দেখে। চুয়েট সাংবাদিক সমিতির অনেক প্রাক্তন নেতৃবৃন্দ দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় যোগদানের সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেন নি।

পরিশেষে, চুয়েট সাংবাদিক সমিতির আগামীর পথচলা মসৃণ হোক সেই কামনা করি।