ব্রেকিং নিউজ

লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি পরিহার করে ফিরে আসুন সুস্থ রাজনীতির পথে

গত ২নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুগ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে চুয়েটনউজ২৪ এর মুক্তচিন্তা বিভাগে লিখেছেন চুয়েটের ছাত্র ইউনিয়ন কর্মী, পেট্রোলিয়াম ও মাইনিং প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী অটল কুমার ভৌমিক

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ব্যাচভিত্তিক ছোটখাটো ঘটনা বেশ নৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু ২নভেম্বর সোমবার ছাত্রলীগের দুগ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনাও শুরুতে ওরকমই ছিল। পরবর্তীতে ব্যাপারটা বিভিন্ন ব্যাচের মাঝে ছড়িয়ে যায় এবং চুয়েটের চিরায়ত নর্থ –সাউথ (চুয়েটের শহীদ মো. শাহ্ হল পূর্বে সাউথ হল এবং শহীদ তারেক হুদা হল পূর্বে নর্থ হল হিসেবে পরিচিত ছিল)  দ্বন্দ্বে পরিণত হয়।
এক বছর আগে যখন ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেয় তখন সচেতন ছাত্রসমাজ এই ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ প্রকাশ করেছিলো। গত এক বছরে বেশ কিছু ব্যাপারে এদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলেও কোন কার্যকর সমাধান আসে নি। নেতৃত্বের ভুল পদক্ষেপ আর ক্ষমতার লালসায় আজকের এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটলো।

1 bcl clash 02-11-2015

সংঘর্ষ চলাকালীন একদল সশস্ত্র ছাত্রলীগ কর্মী

ঘটনাঃ১
গত ৩১শে অক্টোবর ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তিপরীক্ষার দিন ১৩ ব্যাচের ছাত্রদের মধ্যে মৃদু হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।পরদিন থেকেই দুইপক্ষ ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে শুরু করে। নভেম্বরের দুই তারিখ সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।মাঝখানে পুলিশ রেখে গোলচত্বরের দুই পাশে দুইপক্ষ অবস্থান  নেয়। বেলা দেড়টার দিকে শিক্ষকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার পরপরই এক পক্ষ আরেক পক্ষের উপর চড়াও হয়। বেশ কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করার পড় পুলিশ রাবার বুলেট মারতে শুরু করলে বিবাদমান ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

ঘটনাঃ২
সকাল থেকেই আমরা সাধারন শিক্ষার্থীরা ক্যান্টিন দুইএর সামনে অবস্থান নিই। আমরা একটা দরখাস্ত নিয়ে গনসাক্ষর সংগ্রহ করে রক্তপাত ঠেকাতে চাচ্ছিলাম। শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ বের করতে সকালের মধ্যেই হল ত্যাগ করার নির্দেশ দিতে প্রশাসনকে অনুরোধ করছিলাম। কিন্তু এর মধ্যেই ফায়ারিং শুরু হয়ে যাওয়ায় আমরা কাজটা করতে পারি নি। উপরন্তু আমরা বেশ কয়েকজন ফায়ারিং রেঞ্জে পড়ে যাই এবং আট দশজনের গায়ে রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। তখন স্থানীয় আওয়ামি লীগ নেতা করিম আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়ে পুলিশকে গুলি করতে বলে এবং আরও একজন আমাদেরকে গালিগালাজ করতে থাকে। আমরা দৌড়ে গেটের বাইরে চলে যাই। কিন্তু ১৪ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী তারেক হুদা হলের এক্সটেনশনের দিকে আটকা পড়ে যায়। আধঘণ্টা পরে ঐ স্থানীয় আওয়ামি লীগ নেতা মোটরসাইকেল নিয়ে গেটের সামনে এসে আমাকে আর মোস্তাফিজকে দেখে শাসিয়ে যায় এবং দেখে নেয়ার হুমকি দেয়। তখন তার কোমরে পিস্তল ছিল।
একটু পরে ১৩ ব্যাচের অনিরুদ্ধ এসে বলল যে ১৪ ব্যাচের কৌশিকের পায়ে গুলি লেগেছে এবং সে তারেক হুদা হলের এক্সটেনশন থেকে বের হতে পারছে না। তখন আমি আর অনিরুদ্ধ গোল চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশদেরকে বলে ১৪ এর ছেলেটাকে আনতে যাই। নিয়ে আসার সময় চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকা এসআই প্রদীপ আমাদেরকে চিৎকার করে গাড়িতে তুলতে বলে এবং মার শুরু করে। তখন ঐ স্থানীয় আওয়ামি লীগার তার দলবল নিয়ে আমাদের তিনজনের উপর চড়াও হয় এবং টেনেহিঁচড়ে পিকআপে তোলে। তখন চুয়েট পুলিশ ফাঁড়িতে আমাদের আটকে রাখা হয়। পিকআপে করে নিয়ে যাওয়ার সময় আমি চিৎকার করে তনয়দা,শাওনদাকে ডাকি। তারা আমাদের উদ্ধার করতে আসলে স্থানীয় নেতারা পিস্তল উচিয়ে তাদের ধাওয়া দিলে তারা বঙ্গবন্ধু হলে অবস্থান নেয় এবং হল প্রশাসনকে চাপ দেয় আমাদের উদ্ধার করার জন্য। প্রায় একঘণ্টা আটক থাকার পর ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আশুতোষ সাহা আমাদেরকে মেডিক্যাল সেন্টারে নিয়ে আসেন।

এই দুইটা ঘটনার মধ্যে প্রথমটি সারাদেশের মিডিয়ার মনোযোগ আকর্ষণ করলেও দ্বিতীয় ঘটনাটিই বেশি চমকপ্রদ। ক্যাম্পাসের ছেলেরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করুক আপত্তি নেই কিন্তু এই সুযোগে বাইরের লোকজন আর পুলিশ ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা করার সাহস কোত্থেকে পায়?
এই ঘটনায় চুয়েট ছাত্র নেতৃত্বের হঠকারিতা আর প্রশাসনের চরম নৈতিক দৈন্যের পরিচয় পাওয়া যায়।
এই সংঘর্ষের আরেকটি ভীতিকর ব্যাপার হচ্ছে সবচেয়ে জুনিয়র ব্যাচ অর্থাৎ ১৪ ব্যাচের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া যা ক্যাম্পাসের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ। আজকে যারা জুনিয়রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিল কাল সেই অস্ত্র যদি তাদের দিকেই তাক করা হয় তবে ক্যাম্পাসে রক্তের বন্যাই কেবল বাড়বে।

অতএব সময় এখনই লেজুড়বৃত্তির ছাত্ররাজনীতি পরিহার করে ফিরে আসুন সুস্থ রাজনীতির পথে!

12207889_961444610599873_9715714_n

বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পর হল ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

 

( মুক্ত চিন্তা বিভাগের সকল লেখা চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মতামত। এ ব্যাপারে সাথে চুয়েটনিউজ ২৪ কোনরূপ দায়িত্ব নেবে না। )