ব্রেকিং নিউজ

ফেলে আসা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে দুশ্চিন্তায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম দিকে চুয়েট প্রশাসন কতৃক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের বিজ্ঞপ্তি কিংবা হল ভ্যাকেন্টের কোন বিজ্ঞপ্তি না দেয়ায় শিক্ষার্থীরা হল ত্যাগ কিংবা বাড়ি ফেরা নিয়ে দ্বিধায় ভুগছিল । কিন্তু দেশের করোনা পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি ঘটায় একাডেমিক ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন করে তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করে । পরবর্তিতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে ভ্যাকেন্ট করে দেওয়া হয় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) হলগুলো। তড়িঘড়ি করে বাড়িতে চলে যায় সকল শিক্ষার্থী। এই ছুটি কয়েকদিনের হবে এমন ভেবে শিক্ষার্থীরা হলেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ বই, কাগজপত্র, জামা-কাপড় এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রেখে যান । চলমান দীর্ঘদিনের লকডাউনে এবার চিন্তায় পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা । ফেলে আসা এসব গুরুত্বপূর্ণ বই, কাগজপত্র, জামা-কাপড় ইঁদুর, তেলাপোকা ও মাকড়সায় নষ্ট করে ফেলবে এমন ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন অনেকে। ফলে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে নতুন এক বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

কিছু কিছু শিক্ষার্থী হলে যেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসলেও বেশিরভাগ শিক্ষার্থী করোনা পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসতে পারছে না।

বিভিন্ন হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, যেহেতু হলগুলো বন্ধ হয়ে রয়েছে এবং করোনা পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই, তাই তারা তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে আসা কিংবা সেগুলোকে সযত্নে রেখে আসার সুযোগ নেই । যার ফলে প্রতিনিয়ত তাদের দুশ্চিন্তা বেড়েই চলেছে ।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, হলে যেসব বই, খাতা, ল্যাব রিপোর্ট এবং ল্যাব শিট রেখে এসেছি সেগুলো যদি ইদুর কিংবা তেলাপোকা নষ্ট করে ফেলে তবে এই সেমিস্টারে অনেক সমস্যায় পড়তে হবে । স্যাররা যদি আমাদের এসব সমস্যা বিবেচনায় রাখেন তাহলে হয়তো খুব একটা সমস্যায় পড়তে হবেনা ।

এছাড়া তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান মিলু উল্লেখ করেন, হলে যেসব জামা কাপড় রেখে এসেছি, সেগুলো এতদিনে হয়তো ব্যবহার উপযোগী থাকবেনা । এককভাবে চিন্তা করলে হয়তো এটা কারো কারো ক্ষেত্রে হবেনা কিন্তু সমষ্টিগতভাবে চিন্তা করলে এতে অনেকেই ক্ষতির সম্মুখীন হবে ।

তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে যেহেতু মাঝে মধ্যেই সাপ দেখা যায়, এতদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সেই উপদ্রব কিছুটা বেড়ে যেতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন । মেইন হলগুলোতে কম হলেও হলের বর্ধিতাংশে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের জন্য এটা বড় সমস্যা হতে পারে ।

এই ব্যাপারে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, হলের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষার্থে এখন হল প্রভোস্টগণ প্রয়োজনে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন বিদ্যমান ঝোপ- ঝাড় বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আগে সব পরিষ্কার করে দেওয়া হবে।

হল প্রভোস্টগণের মধ্যে শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান বলেন, আমার হলে যাদের মনে হচ্ছে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগবে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে নিয়ে যাচ্ছে। এইক্ষেত্রে তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা আমি করে দিচ্ছি। এখনও যদি কারো মনে হয় তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র লাগবে তাহলে তারা আমার সাথে যোগাযোগ করে তার প্রয়োজনীয় জিসিনপত্র নিয়ে যেতে পারবে। আর হলের প্রতিটি রুমে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের প্রথম দিক থেকেই সিলগালা করা আছে । এছাড়াও শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের রুমের চাবি তাদের নিজ নিজ ব্যতীত অন্য কারো কাছে নাই। যার ফলে শিক্ষার্থীদের রুমে বহিরাগত প্রবেশ করাটা প্রায় অসম্ভব।

এইদিকে প্রয়োজনীয় জিনিস নস্ট হওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন গ্রেডসিট বা বই-খাতা সহজে নস্ট হওয়ার কোনো কারণ আমি দেখি না। কারণ আমার হল নতুন । নতুন হল হিসেবে বৃষ্টির পানি বা অন্য কোনো বাজে জিনিস রুমে প্রবেশ করার কথা নয় । যার জন্য হলের রুমে বিদ্যমান প্রয়োজনীয় বই-কাগজ নস্ট হয়ে যাবে। তারপরও কারো যদি মনে হয় তার রুমে পানি বা অন্য কিছু প্রবেশ করবে যার জন্য তার বই-খাতা নস্ট হয়ে যাবে, তাহলে আমাকে অবগত করলে হবে। তাহলে সে হিসেবে আমি প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নিব।

ক্যাম্পাস খোলা থাকলে বাড়ির জন্য মন কাঁদতো । বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটি গোনা । ছুটি পেলেই ব্যাগ, বই-খাতা গুছিয়ে ফেলা সেই শিক্ষাথীরা এখন সেই ব্যাকুলতায় ক্যাম্পাস ফিরতে চায় । প্রিয় ক্যাম্পাস, বন্ধুবান্ধব এবং প্রতিদিনের ব্যাস্ততার মাঝে ক্লান্তি আর আড্ডার দিনগুলো ছেড়ে দীর্ঘদিন লকডাউনে বাসায় থেকে এখন সবার কাছে শুধু একটাই অপেক্ষা । কবে ফিরবে সেই ক্যাম্পাসে । কবে সুস্থ হবে দেশ।

তারিখঃ ২৯/০৭/ ২০২০