ব্রেকিং নিউজ

প্রকৌশলীদের বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি

shahjahan vai

বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের অন্যতম আকর্ষণীয় এবং মর্যাদাপূর্ণ চাকরী বিসিএস। বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রকৌশলীরা কিভাবে নিজেদের প্রস্তুত করবেন সে সম্পর্কে ধারাবাহিকভাবে লিখছেন ৩৬তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত এবং চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০১০ ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ শাহজাহান। ৩য় পর্বটি আজকে প্রকাশিত হল। শেষ পর্বে প্রকৌশলীরা বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন সে সম্পর্কে ধারণা পাবেন।

”Assiduity makes Progress,
Progress makes Success”

বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার দৌড়ে লিখিত পরীক্ষা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া ৩৫,৩৬,৩৭ বিসিএস এর আলোকে লিখিত পরীক্ষার জন্য সংক্ষিপ্ত আলোকপাত করছি।

লিখিত পরীক্ষা সাধারণ ক্যাডারের জন্য ৯০০ নাম্বারের। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (২০০), ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র (২০০), বাংলাদেশ বিষয়াবলী (২০০), আন্তর্জাতিক (১০০), সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (১০০), গাণিতিক যুক্তি (৫০) ও মানসিক দক্ষতা (৫০)। তবে টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডারের জন্য বাংলা ২য় পত্র (১০০) ও সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (১০০) এর পরিবর্তে নিজ বিষয়ে ২০০ নাম্বারের পরীক্ষা দিতে হয়। উভয় ক্যাডারের হলে ৯০০ নাম্বারের সাথে নিজ বিষয়ের উপর আরো ২০০ নাম্বারের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

সুন্দর উপস্থাপনা, উপযুক্ত তথ্য এবং সময়ের সাথে সংগতি রেখে সবগুলো প্রশ্ন লিখলেই ভালো করা যায় অনায়াসেই। চোখ কান খোলা রেখে সবসময় নিজেকে Update রাখলে এবং নিয়মিত অনুশীলন করলে সাফল্য ধরা দেবে।পরিবর্তিত সিলেবাসের সাথে সংগতি রাখতে নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

বাংলা (২০০) [ প্রথম পত্র (১০০) + দ্বিতীয় পত্র (১০০)]

প্রথম পত্রঃ ব্যাকরণ অংশে ৩০ নাম্বারের প্রশ্ন করা হয় নির্দিষ্ট কাঠামোর উপর। এ অংশ যথাযথ অনুশীলন করলে সর্বোচ্চ নাম্বার পাওয়া সম্ভব। এ জন্য হায়াৎ মাহমুদ স্যারের উচ্চ মাধ্যমিক ব্যাকরণ বেশ সহায়ক।
ভাবসম্প্রসারণের(২০)জন্য যে কোনো নাতিদীর্ঘ আলোচনা করতে হয়। উপযুক্ত বাক্য ও যুক্তির মাধ্যমে সুন্দও ও সুষ্ঠু লিখলে বেশ ভালো করা যায়। সারমর্ম (২০) অংশের জন্য নিয়মাবলী জেনে যথার্থ বাক্য দিয়ে লিখলে ভালো মার্কস অর্জন করা যায়।

বাংলা ভাষা সাহিত্য বিষয়ক (৩০) প্রস্তুতির জন্য ড. সৌমিত্র শেখরের সাহিত্য ও ড. মাহবুবুল হকের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস যথাযথ অনুশীলন করলে যথেষ্ট ভালো করা সম্ভব।

দ্বিতীয় পত্রঃ অনুবাদের (১৫) এর জন্য নিয়মিত অনুশীলন জরুরি। কাল্পনিক সংলাপ (১৫) ও পত্র লিখন (১৫) এর জন্য যথাযথ কাঠামো জানা থাকলে বেশ ভালো করা যায়। গ্রন্থ সমালোচনা (১৫) এর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সন্নিবেশিত সাহিত্যিক অংশগুলো আলোচনা করলে ভালো করা যায়। এর জন্য বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম বাছাই করে পড়লে ভালো কাজ দিবে। রচনা (৪০) অংশের জন্য একটি নিদিষ্ট বিষয়ের উপর সুনির্দিষ্ট আলোচনা করতে হয়। প্রয়োজনীয় ও যথার্থ তথ্য সংযুক্ত করে গুছিয়ে লিখলে ভালো করা সম্ভব। এর জন্য কিছু রচনা বাছাই করে পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে বেশ ভালো তথ্য সন্নিবেশিত করা যায়।

ইংরেজি (২০০) [ প্রথম পত্র (১০০) + দ্বিতীয় পত্র (১০০)]

প্রথম পত্রঃ Comprehension (৩০) অংশের জন্য অনুশীলন জরুরি। এ অংশে Passage টির উপর ১০টি প্রশ্ন করা হয়। ভালো করে বুঝলে ও প্রশ্নের ধরন অনুযায়ী ঠিক উত্তর করলে বেশ ভালো নাম্বার পাওয়া যায়।এজন্য একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি প্রথম পত্রের বইটি চর্চা করতে পারেন।

Grammar (৩০) অংশের জন্য কোনো ভালো গ্রামার বই থেকে অনুশীলন করা জরুরি। এ অংশের জন্য Parts of speech, Phrase & Idioms, Voice, Narration, Transformation, Synonym & Antonym, Word meaning বেশি বেশি অনুশীলন করা উচিত।

Summary (২০) অংশটি প্রদত্ত Passage এর উপর লিখতে হয়। তাই Passage টির উপর ভালো ধারনা থাকলে ১০০ শব্দের মধ্যে Summary লেখা সুন্দর ও গুছানো হয়। Letter (২০) অংশের জন্য Passage টির কোনো ইস্যুর উপর সম্পাদক বরাবর লিখতে হয়। তাই প্রয়োজনীয় কাঠামো ও তথ্য অনুযায়ী করলে ভালো করা সম্ভব।

দ্বিতীয় পত্রঃ Essay (৫০) অংশের জন্য প্রচুর ফ্রি হ্যান্ড রাইটিং জরুরি। যেকোনো বিষয়ের উপর নির্দিষ্ট সংখ্যক শব্দের মধ্যে গুছিয়ে লিখতে হয়। সম সাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও ঘটনাগুলো গুরুত্ব দেয়া ভালো।এক্ষেত্রে Point of View, Grammatical rules follow করা উচিত।

বাংলা থেকে ইংরেজি (২৫) ও ইংরেজি থেকে বাংলা (২৫) অংশের জন্য নিয়মিত অনুশীলন জরুরি। প্রতিদিন যে কোনো ২ টি পত্রিকার Editorial অংশের অনুবাদ অনুশীলন করলে মানসিকভাবে প্রশান্তি আসে।এছাড়া Google Translator ব্যবহার করে বিখ্যাত কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকীয় চর্চা করতে পারেন।

বাংলাদেশ (২০০)

বাংলাদেশ অংশের জন্য সিলেবাসের প্রতিটা টপিকের উপর মৌলিক ও যথার্থ তথ্য জানা জরুরি। বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলী,মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সালের ঘটনাবলি,স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশ,ভৌগোলিক বিষয়, অর্থনীতি, পরিবেশগত ইস্যু, প্রাকৃতিক সম্পদ, মানবসম্পদ, আইসিটি, জেন্ডার ইস্যু ভালো করে অনুশীলন করতে হয়। বিশেষ করে সংবিধান ও সরকারের বিভিন্ন অঙ্গ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা রাখতে হয়।

এছাড়া নির্বাচন, রাজনৈতিক দল, পররাষ্ট্রনীতি, গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ও ব্যক্তিত্ব, জনপদ, NGO, চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী,স্থানীয় সরকার সম্পর্কে ও জানা ভালো। এর জন্য সহায়ক হিসেবে উচ্চ মাধ্যমিক পৌরনীতি ও সুশাসন,৯ম-১০ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং ইতিহাস, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, উইকিপিডিয়া, অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুসরণ করা ভালো। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর প্রয়োজনীয় পত্রিকা কাটিং, ডাটা, তথ্যচিত্র, মানচিত্র, তথ্যসূত্র নোট করে রাখলে রিভিশন দিতে সুবিধা হয়।নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

আন্তর্জাতিক (১০০)

এ অংশের জন্য সিলেবাসের টপিকগুলোর উপর সুষ্ঠু ধারনা থাকা আবশ্যক। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন (৪০) খুব ভালো করে অনুশীলন করা জরুরি।। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, রাষ্ট্র, শক্তি-সাম্য, জাতীয় শক্তি,সন্ত্রাসবাদ,বহু-রাজনীতি, সমাজবাদ, বিশ্বায়ন,স্নায়ুযুদ্ধ, পররাষ্ট্রনীতি, কূটনীতি, মুক্ত বাণিজ্য, MDG, SGDS, FDI, পরিবেশগত ইস্যু ও কূটনীতি, জাতিসংঘ, (চীন-আমেরিকা-রাশিয়া-ভারতের পররাষ্ট্রনীতি), WB, IMF, BRICS, OIC, EU, NATO, GCC, ফিলিস্তিন সমস্যা, কাশ্মীর সমস্যা, দক্ষিণ চীন সাগর পরমাণু ইস্যু, বাংলাদেশের সাথে (আমেরিকা-চীন-রাশিয়া-ভারত- পাকিস্তান-জাপানের পররাষ্ট্রনীতি),বৈশ্বিক অর্থনীতি,বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও চ্যালেঞ্জ ভালো করে পড়া উচিত। এর জন্য সহায়ক হিসেবে Google, Wikipedia আবদুল হাই এর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতি বই অনুশীলন করতে পারেন।

গাণিতিক যুক্তি (৫০)

এ বিষয়ে ভালো করার জন্য যথাযথ ও নিয়মিত অনুশীলন করা দরকার। প্রতিটা টপিকের মৌলিক ধারণাগুলো জেনে প্রস্তুতি নিলে পূর্ণ নাম্বার পাওয়া সম্ভব।সহায়ক হিসেবে ৮ম,৯ম,১০ম শ্রেণির মাধ্যমিক গণিত এবং উচ্চতর গণিত অনুশীলন করলে ভালো হয়। (বীজগণিত ও জ্যামিতি অংশে জোর দেওয়া উচিত)।

মানসিক দক্ষতা (৫০)

এ বিষয়ে ভালো করার জন্য অনুশীলন দরকার। বিগত বছরের প্রশ্নগুলো অনুশীলন করলে প্রস্তুতি হয়ে যায়।এছাড়া বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের মৌলিক ধারনা থাকলে খুব ভালো করা যায় এ অংশে।

সাধারণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (১০০)

সাধারণ জ্ঞান (৬০): সাধারণ বিজ্ঞান অংশে ভালো করার জন্য সিলেবাসের টপিকগুলোর উপর মৌলিক ধারনা রাখতে হবে। সহায়ক হিসেবে ৯ম-১০ম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান দেখতে পারেন। প্রয়োজনীয় চিত্র ও তথ্য অনুশীলন করা ভালো।

কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি (২৫): এ অংশে ভালো করার জন্য টপিকগুলো ভালো করে আত্মস্থ করতে হবে। সহায়ক হিসেবে Google, উচ্চ মাধ্যমিক কম্পিউটার ও তথ্য প্রযুক্তি-মুজিবুর রহমান অনুসরণ ভালো।

ইলেকট্রনিক্স (১৫): এ অংশের জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পদার্থবিজ্ঞান থেকে অনুশীলন করলে বেশ ভালো করা যায়।

এই লেখার বক্তব্যগুলো আমার ব্যক্তিগত মতামত। কোন ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে গঠনমূলক সমালোচনা করলে কৃতার্থ হব। লেখাটি শুধুমাত্র বিসিএস আগ্রহী প্রকৌশলীদের জন্য।পরবর্তী লেখায় আপনারা মৌখিক পরীক্ষার জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিবেন সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। ততদিন পর্যন্ত ভাল থাকুন। সৃষ্টিকর্তার কাছে সবার উত্তরোত্তর সাফল্য ও দোয়া কামনা করছি।

তারিখঃ ২২/১২/২০১৭ ইং