ব্রেকিং নিউজ

পুলিশ দ্বারা চুয়েট শিক্ষার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সুবর্ণ জয়ন্তী উৎসব পালনের মধ্যরাতে মূলফটক দিয়ে প্রবেশাধিকারকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে পুলিশ চার শিক্ষার্থীকে লাঠিচার্জ করে এবং তন্মধ্যে একজন শিক্ষার্থীর মাথায় জখম হয়। আহত হওয়ার পাল্টা অভিযোগ তুলেছে পুলিশও। এ নিয়ে শুক্রবার(৬ই ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকগামী সড়কে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল।

লাঠিচার্জে চতুর্থ বর্ষের ৩জন শারীরিকভাবে আহত হয় এবং তৃতীয় বর্ষের ১জন শিক্ষার্থী মাথায় জখম হয়। পাল্টা অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ছোড়া ঢিলে পুলিশের চারজন আহত হয়। আহতরা হলেন মো. বেলাল হোসেন,ইয়ার হোসেন,মোহাম্মদ মাহাবুব এবং কনস্টেবল কামাল।

এই বিষয়ে রাউজান থানার ওসি কেফায়েত উল্লাহ বলেন, চুয়েটের সুবর্ণজয়ন্তীতে বহিরাগতরা যাতে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেই লক্ষ্যে পুলিশ প্রধান ফটকসহ ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বরত ছিল। রাত ১টার দিকে চতুর্থ বর্ষের আনাস মৃধা নামক এক শিক্ষার্থী হঠাৎ দলবল নিয়ে এসে প্রধান ফটকে লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে গেইটে দায়িত্বরত পুলিশের চুয়েট ফাঁড়ির আইসির কাছে কৈফিয়ত চান তার কোচিং সেন্টারের ছেলেদের প্রবেশ করতে দেয়নি কেন। এই সময় সে দায়িত্বরত পুলিশের গায়ে হাত তোলে। আমরা তাকে ধরে পাশের আনসার রুমে নিয়ে যায়। স্যারদের হাতে তাকে হস্তান্তর করা হয়। এর পরই চুয়েটের ছাত্ররা লাটিসোটা নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা করতে চেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা কাপ্তাই সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধের চেষ্টাও চালায়। শিক্ষার্থীদের ছোড়া ইট-পাথরের টুকরার আঘাতে এসআই,এএসআই ও কনষ্টেবলসহ চারজন আঘাত হয়। পরবর্তীতে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশ সর্বোচ্চ ধৈর্য ধারণ করে পাল্টা আঘাত করেনি। সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশ নেওয়া অতিথিরা চলে যাওয়ার পর রবিবার ভোর চারটার দিকে আমার চুয়েট ত্যাগ করি।

আহত চতুর্থ বর্ষের আনাস মৃধা জানান- ” সুবর্ণ জয়ন্তীর রাতে আমার কয়েকজন অতিথি কনসার্ট দেখতে আসছিল। আমি ওদের এগিয়ে নেওয়ার জন্য ফটকের বাইরে গেলে,পরবর্তীতে ঢুকার সময় আমাকে এবং আমার অতিথিদের বাঁধাপ্রদান করে পুলিশ। উনারা আমাকে ঢুকতে দিলেও আমার অতিথিদের ঢুকতে দেয়াতে অপারগতা জানায়। তখন আমি ‘ইতোমধ্যে অনেক বহিরাগতকে ভিতরে প্রবেশ করতে দিছেন, আমার অতিথি কেনো নই?’ এই বলে প্রতিবাদ করলে ওনারা আমার সাথে থাকা এক বন্ধুকে হঠাৎ লাঠি দিয়ে আঘাত করে। আপনি আমার বন্ধুর গায়ে কেনো আঘাত করছেন,এই কৈফিয়ত চাইলে তখন তারা তাদের (পুলিশের) উর্ধ্বতন কর্মকতার না আসা পর্যন্ত আমাদের ছেড়ে দেবে না এই বলে ফটকের পার্শ্ববর্তী আনসারকক্ষে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে রাউজান থানার ওসি কেফায়েতউল্লাহ ও রাউজানের দাঙ্গা পুলিশের হেড এসে নানা অশ্রাব্য ভাষায় গালি ও পুলিশের গায়ে হাত দিসছ এই বলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে এবং হ্যান্ডকাফ পড়ানোর জন্য ধস্তাধস্তি করে। ঘটনাস্থলে তখন তড়িঘড়ি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপ-পরিচালক হুমায়ুন স্যার এসে আমাকে হ্যান্ডকাফ পড়াতে বাঁধাপ্রদান করেন। ” এছাড়া তিনি সাংবাদিকদের ফটকে লাথি মারার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে বলেন।

পুলিশের উপর ঢিল নিক্ষেপের বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান- ব্যাপারটা সম্পর্কে আমি অবগত না। কারণ আমরা আহত হওয়ার পরপরই আমাদেরকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মেডিকেল সেন্টারে নেয়া হয়।

জখম হওয়া তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জানান, আমাকে কেনো মারছে, কিভাবে মারছে কিছু আঁচ করতে পারিনি। শুধু এটুকু দেখছি আমাকে পুলিশ আঘাত করছে। আমার রক্তক্ষরণ বন্ধের জন্য ডাক্তার তিন সূচ সেলাই দিছে।

পুলিশ কোনো ছাত্রের গায়ে হাত তুলতে পারে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মো. মশিউল হক বলেন, তারা কোনো ছাত্রকে আঘাত করতে পারে না, এবং এটা তাদের প্রটোকলেও নাই এবং ঐ সময় তাদের ওসি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি রাতের খাবার এর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ২নং ক্যান্টিনে গিয়েছিলেন। গেটের তিনটা সিসিটিভি ফুটেজ চেক করা হয়েছে কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছে এই সিসিটিভি গুলো আগে থেকেই নষ্ট ছিল। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি তাদের তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারবো।