ব্রেকিং নিউজ

চুয়েট ভর্তি পরীক্ষাঃ শিক্ষার্থীদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা

সৈয়দ তাহমিদ হোসেনঃ

শেষ হলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১০৮-১৯ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা।

ভর্তি পরীক্ষায় আগত পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আবাসন, খাওয়া দাওয়া, যাতায়াত ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছেন চুয়েটের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

তাদের আতিথেয়তায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন অনেকেই।

সিলেট থেকে আগত একজন অভিভাবক মোঃ জয়নাল হোসেন বলেন, চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে অনেক চিন্তায় ছিলাম। কখনো চট্টগ্রাম আসা হয়নি এর আগে। তাই ছেলেকে একা পাঠাতে ভয় পাই। অথচ এখানে এসে চুয়েট পরিবারের যে পরিমাণ সাহায্য পেয়েছি তাতে মনে হয়েছে চুয়েটের সবাই আমার অনেক আপন। আমি এখানকার সকল শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করি।

রাজশাহী থেকে এসেছেন পরীক্ষার্থী সায়মা সুলতানা। তিনি জানান, কখনো চিন্তাও করিনি এতটুকু সাহায্য পাব। চুয়েটের সিনিওর ভাইয়া ও আপুরা সত্যিই অনেক কষ্ট করেছেন। আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।

এদিকে পরীক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতির কথা শেয়ার করছেন ফেসবুকের ভর্তি বিষক গ্রুপেও।

আবু দারধা লিখেছেন, এর আগে কুয়েট এর হসপিটালিটি সবচেয়ে বেশি ভাল লাগছিল।বাট চুয়েট সবকিছকে ছাড়িয়ে গেছে।টাকা খুচরা ছিল না বলে এক ভাই কে বললাম যে খুচরা হবে কিনা।ভাই এর কাছে ছিল না।খোজাখুজি করে খুচরা পেলেন না।তারপর আমাকে বললেন কত টাকা ভাড়া ।আমি বললাম ৪০০। রেগুলার ভারা ২০০ টাকা হওয়ায় ভাই রাগারাগি করে বললেন তুমি যাও।আমি বললাম ভাই ভাড়া দিব না।ভাই বললেন তুমি যাও আমি দেখতেছি।আমি অবাক হয়ে গেলাম।ভাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ছোট কিরতে চাই না।যাস্ট এটাই বলবো এমন হেল্পফুল খুব কমই আছেন ।

সোহাগ খান লিখেছেন, আজ সকালে লালখান বাজার হতে বাইকে করে সকাল ৭ টায় রওনা হই। জিইসি মোড় পার হওয়ার পর এক বাসের সাথে বাইকের সংঘর্ষে আমি সামান্য আহত হই কিন্তু আমার ভাই যিনি বাইক চালাচ্ছিলেন তার ভালই ব্যথা লাগে।তারপর সিএনজি নিয়ে আমি কোনো মতে রাস্তার মাথা নামক জায়গায় গেলে চুয়েটের ভাইরা দৌড়ে এসে জিজ্ঞেস করে “তুমি কি পরীক্ষার্থী? ” আমি হ্যাঁ বলতে আমার ফাইল আর খাতা নিয়ে বলে তোমাদের জন্য লেগুনা রিজার্ভ করছি জলদি এসো। তারপর লেগুনায় উঠার পর এক আঙ্কেল বলে বাবা দেখ তো এখানে হোটেল আছে কিনা আমার ছেলেটা সকালে নাস্তা করে নাই। এই শুনে এক ভাই দৌড়ে দোকানে গিয়ে পানি আর বিস্কিট এনে দেয়। পরবর্তীতে আঙ্কেল টাকা দিতে চাইলেও ভাই নেন নি।
চুয়েটের সামনে নামার পর সাথে সাথে এক ভাই আমাকে বলে সিট কোন হলে আমি বলি ইএমই বিল্ডিং, সাথে সাথে ভাই হাত ধরে বলে এসো আমি দেখিয়ে দিচ্ছি।এরকম ভাবে ছোট ভাইদের এত হেল্প করে তা আমি আরো যে ভার্সিটিতে এক্সাম দিয়েছি সেখানে দেখি নি।ভাইদের সবাইকে আমার আন্তরিক ভালবাসা।

স্নিগ্ধা রয় লিখেছেন, চুয়েটের সিনিয়র ভাইয়া আপুরা খুবই আন্তরিক।ওনারা অনেক সহযোগিতা করেছেন।ওনাদের ব্যবহারে পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি গার্ডিয়ানরাও খুব খুশি।চুয়েটে পরীক্ষা দিয়ে আমার খুব ভালো লেগেছে।