ব্রেকিং নিউজ

চুয়েটে ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রীতার অভিযোগ

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক :

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রীতার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। ফল প্রকাশ সম্পর্কিত নির্ধারিত নিয়ম থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন পরীক্ষার ফল প্রকাশে কালবিলম্ব করা হচ্ছে বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, এতে করে শিক্ষাকাল দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।

বিশ্ববিদ্যালয় আদেশনামা অনুযায়ী, প্রতি বিজোড় সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে এবং জোড় সেমিস্টারের পরীক্ষা শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের নিয়ম রয়েছে। কিন্তু দেখা যায় প্রায়শই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে এই নিয়ম মানা হচ্ছে না। জোড় সেমিস্টারগুলোর  ফলাফল সময়মত প্রকাশ করা হলেও বিজোড় সেমিস্টারগুলোর ফল প্রকাশে তিন থেকে চার মাস সময় লাগছে। এছাড়া প্রায়ই বিজোড় সেমিস্টারের ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে জোড় সেমিস্টারের সাথে। দেখা যায়, পুরকৌশল বিভাগের ১২ ব্যাচ এর লেভেল ৩ টার্ম ১ এর ফল প্রকাশ করা হয় লেভেল ৩ টার্ম ২ এর ফল প্রকাশের দিনে। কম্পিউটার প্রকৌশল, তড়িৎকৌশল, যন্ত্রকৌশলসহ অন্যান্য বিভাগগুলোর ফল প্রকাশের একই হাল। যন্ত্রকৌশল বিভাগের লেভেল-৪ টার্ম-১ পরীক্ষা ফেব্রুয়ারী মাসে শেষ হলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি ।

এছাড়া প্রতি ক্লাস টেস্টের ফলাফল ঐ কোর্সের পরবর্তী ক্লাস টেস্ট অনুষ্ঠিত হবার আগেই প্রকাশ করার নিয়ম থাকলেও তা সময়মত প্রকাশ করা হচ্ছে না । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, কিছু শিক্ষক পুরো সেমিস্টারেও কোন ক্লাস টেস্টের ফলাফল প্রকাশ করছেন না।

এদিকে ফলাফল প্রকাশের দীর্ঘসূত্রীতার কারণে বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, সময়মত ফলাফল না পাওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের একাডেমিক কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে মধ্যে তারা সেল্ফস্টাডি পরীক্ষার প্রস্তুতির সুযোগ পাচেছন না । এছাড়াও ফলাফল মুদ্রণজনিত ভুলের কারণে পরীক্ষায় পাশ করার পরেও অনেক শিক্ষার্থীকে ফলাফলে অকৃতকার্য হিসেবে প্রকাশের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন ঘটনার ভুক্তভোগী পুরকৌশল বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আজেদুল সরকার তার ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে জানান, সিই-৩৩৩ কোর্সে পরীক্ষায় দ্বিতীয়বার অংশ নিয়ে ফলাফল সংগ্রহের সময় তিনি জানতে পারেন প্রথমবারে মূল পরীক্ষাতেই তিনি পাশ করেছিলন। কিন্তু মুদ্রণজনিত ভুলের কারনে সেসময় তাকে অকৃতকার্য হিসেবে দেখানো হয়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান পরীক্ষানিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রশীদ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে এজন্য বিভিন্ন বিভাগের গাফিলতিকে দায়ী করেন। এছাড়াও তিনি বলেন, সকলে নিজ নিজ আবস্থান থেকে সঠিক ভাবে দায়িত্ব পালন করলেই ফলপ্রকাশের দীর্ঘসূত্রীতাজনিত সমস্যার সমাধান সম্ভব।
এছাড়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চন্দ্র বণিক চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতা ও কিছু শিক্ষকের ক্লাস টেস্টের ফল প্রকাশ না করার ব্যাপারে তিনি অবগত আছেন। তিনি জানান সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন “অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং ফলপ্রকাশে আর যেন বিলম্ব না হয় এ ব্যাপারেও ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।”

কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগের শেষবর্ষের শিক্ষার্থী জফরূল হাসান বলেন, আফসোস এই যে চুয়েট একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের ফলাফলের তথ্য সংম্বলিত আলাদা কোন ডিজিটাল আইডি বা ডাটাবেজ নেই।

তারিখ: ১৪.৫.১৭