ব্রেকিং নিউজ

চুয়েটে করোনা আতঙ্কঃ শিক্ষার্থী শূন্য ক্লাসরুম ; ক্যাম্পাস ছাড়ছে শিক্ষার্থীরা

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

করোনা ভাইরাস আতঙ্কে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে শনিবার (১৪মার্চ) মধ্যরাতে চুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের ক্লাস প্রতিনিধিদের (সিআর) আলোচনা সাপেক্ষে মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

শনিবার বিকেলে নতুন করে দুইজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর শোনার পর থেকেই শিক্ষার্থীরা হল ছেড়ে চলে যেতে থাকে এবং রবিবার বিকেল পর্যন্ত প্রায় একহাজার শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যায়।

জানা গেছে, আজ রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের (‘১৬ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের টার্ম পরীক্ষা ছিল এবং চতুর্থ বর্ষের (‘১৫ব্যাচ) অনেক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল ল্যাব টেস্ট, ক্লাস টেস্ট,প্রেজেন্টেশন, ভাইবা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে এধরণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার পর আর কেউ কোনো প্রকার একাডেমিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে নি।  তবে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে আজ বেলা সাড়ে বারোটার সময় সকল ধরনের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখার ব্যাপারে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আবেদন জানায়।

রবিবার পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ক্লাসরুম, ক্যান্টিন, লাইব্রেরিগুলো ছিল শিক্ষার্থী শূন্য।  দুই একজন শিক্ষার্থীকে দেখা গেলেও তারা সবাই নিজ নিজ বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন৷ এমনই এক শিক্ষার্থীর সাথে দেখা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বরে। নাম প্রকাশ না করা স্বার্থে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ১৫০ টি দেশে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে এবং বেশীরভাগ দেশেই প্রথম রোগী পাওয়ার পরের এক সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ খুব দ্রুত ছড়িয়েছে। তাই আমরা নিজেদের সুস্থ রাখতে এবং আমাদের মাধ্যমে যেন অন্যান্য মানুষের মধ্যে না ছড়িয়ে যায় সেজন্য বাসায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এছাড়া এদিন দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষার হলগুলো ঘুরে কোনো শিক্ষার্থীর দেখা মেলেনি। এবিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধি মোঃ তকী তাজওয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদের নিরাপদ অনুভব করছি না। তাই আমরা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পরিস্থিতি উন্নত হলে আমরা ক্যাম্পাসে ফিরে আসবো। তখন নতুন ভাবে সময়সূচি প্রকাশ করে পরীক্ষাগুলো নেওয়ার আবেদন জানাচ্ছি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মশিউল হক বলেন, এই করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বের জন্যই চিন্তার বিষয়।  ভার্সিটি বন্ধ থাকবে নাকি খোলা থাকবে সে সিদ্ধান্ত আমরা সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী  নিবো।  শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এর আগেও বিভিন্ন সময় ক্যাম্পাস ছেড়ে গিয়েছে। এবিষয়ে আসলে আমাদের কিছু বলার নেই।