ব্রেকিং নিউজ

চুয়েটে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাট

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বিগত কয়েকদিন ধরে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে। একদিকে গ্রীষ্মের কঠোর তাপ অন্যদিকে আলো বাতাসহীন অন্ধকার ক্যাম্পাস; প্রতি রাতেই এমন অবস্থার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ সকলের। শুধু রাতেই নয়, দিনেও একাধিকবার হয় বিদ্যুৎ বিভ্রাট। গত ২৫ এপ্রিল সকাল ৭ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত মাত্র ৫ ঘন্টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল ৪ বার।

প্রতিদিন শেষরাতে কিংবা ভোরে বিদ্যুৎ না থাকাটা যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুক্তোভুগী হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিনকার ক্লাস টেস্ট, কুইজ ভাইভা, ল্যাব এসাইনমেন্ট করতে যেয়ে প্রতিনিয়ত বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। বিশেষ করে টার্ম ফাইনালের আগে বিদ্যুত বিভ্রাট পরীক্ষা প্রস্তুতির ব্যাঘাত করছে।

এদিকে ক্লাসের মাঝখানে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়াতে কম্পিউটার, প্রজেক্টরসহ ওন্যান্য ইলেক্ট্রিক শিক্ষা উপকরণ বারবার বন্ধ হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন শিক্ষা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে তেমনি ডিভাইসগুলোও কার্যক্ষমতা হারানোর সমুহ সম্ভাবনা রয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফয়সাল আহমেদ বলেন, রাতে ঘুমাতে যাওয়ার সময় বিদ্যুৎ থাকে, হঠাত করেই মধ্যরাতে লোডশেডিং এ ঘুম ভেঙে যায়, প্রচন্ড গরম আর হঠাত ঘুম ভেঙে যাওয়া আবার সকাল নয় টায় ক্লাসে যাওয়ার চিন্তা, সব মিলিয়ে এক বিরূপ অবস্থার মধ্যে পড়েছি আমরা।

আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, বিগত ৪ বছরে চুয়েটে বিদ্যুতের এতো খারাপ অবস্থা দেখিনি। প্রচণ্ড গরমে মধ্যরাতে ঝড়, বৃষ্টি কিছু না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হওয়াটা একটা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, চুয়েটের ভোল্টেজ সমস্যা দূরীকরণে বর্তমানে ৩৩/১১ এর লাইন নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরাতন লাইন পরিবর্তন করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ইলেক্ট্রিক ক্যাবল টানানো হয়েছে পুরো ক্যাম্পাসে। এখনো কিছু কাজ চলমান আছে বিধায় বর্তমানে একটু বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে ঘুর্ণীঝড় ফণীর কারনেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট ছিল। তবে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করছি যাতে যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের এই সমস্যা সমাধান হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, বিদ্যুতের চলমান সংকট নিরসনে চুয়েট প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। আমরা একাধিকবার কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেছি। আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই সমস্যার সমাধান হবে।