ব্রেকিং নিউজ

চুয়েটের সাবেক উপাচার্যের অনারারি ডক্টরেট ডিগ্রী অর্জন

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর সাবেক উপাচার্য ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ও নেতৃত্ব খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরুপ যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত কমনওয়েল্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রী পাচ্ছেন। আগামী ১১-১৩ ডিসেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিতব্য ‘দুবাই লিডারশীপ সামিট’-এ অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে উক্ত ডক্টরেট ডিগ্রী প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানটি কমনওয়েলথ ইউনিভার্সিটি এবং লন্ডন গ্র্যাজুয়েট স্কুল যৌথভাবে আয়োজন করছে।

অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ১৯৬০ সালের ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম মনির আহমদ একজন মুক্তিযোদ্ধা। তিনি তৎকালীন চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে ১৯৮৪ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিগ্রী লাভ করেন।

তিনি ইউনেস্কো ফেলোশীপের অধীনে ভারতের আন্না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৯ সালে এম.ইঞ্জিনিয়ারিং (স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং) এবং ১৯৯৪ সালে পুরকৌশল বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। ১৯৯৯ সালে নেদারল্যান্ড ফেলোশিপের অধীনে মেসিডোনিয়া ইউনিভার্সিটি অফ সেন্ট মেথোডিয়াস থেকে আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ সম্পন্ন করেন।
বর্তমানে তিনি চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগে অধ্যাপনার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অবশ্যই গবেষণাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স,কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, রোবোটিক্স, ন্যানোটেকনোলোজি, বায়োটেকনোলোজি, অটোনোমাস ভেহিকল, ক্লাইমেট চেঞ্জ, ওয়াটার সেনিটেশন এগুলোর উপর বেশি জোর দিতে হবে। বিশেষ করে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, মেশিন লার্নিং এবং রোবোটিক্সের ব্যাসিক ধারণা সবার থাকা উচিত। এটা যে শুধুমাত্র মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল কিংবা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়াররাই শুধুমাত্র জানবে তা নয়। কেননা বর্তমানে প্রত্যেকটা ইন্ডাস্ট্রি অটোমেশন বেইসড হয়ে যাচ্ছে, তাই সবাইকেই এসব ধারণা রাখতে হবে।

তিনি আরো বলেন, একটা বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে, আমাদের পড়ালেখাগুলো যেন অবশ্যই গবেষণাভিত্তিক হয়; শুধুমাত্র পড়ার জন্য পড়লাম এরকম হলে চলবেনা। অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে শিখতে হবে। ক্লাসে শিক্ষক একটা টপিক পড়ানোর পর সাথে সাথে তাকে গাড়ি করে সাইটে নিয়ে যেতে হবে যাতে সে উপলব্ধি করতে পারে র্প্যাকটিকাল ফিল্ডে জিনিসটা কোথায় আছে। সর্বোপরি আমাদের বিশ্ববিদ্যালগুলোকে দ্রুত একাডেমিক ও রিসার্চ ইউনিভার্সাটিতে পরিণত করতে হবে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগই পারে একে বাস্তব রুপ দিতে। বাংলাদেশের প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক কমপক্ষে হলেও অন্তত ৫ কোটি টাকা শুধুমাত্র গবেষণা খাতে বরাদ্দ রাখতে হবে।

তারিখঃ ০৭/১১/১৮