ব্রেকিং নিউজ

চুয়েটের শিক্ষার্থীরা আধাঘন্টায় ৫০টি ফিটনেস-লাইসেন্স বিহীন সিএনজি আটক

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কে সিএনজি দুর্ঘটনায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদুল ইসলাম চৌধুরীর অকালমৃত্যুর ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহপাঠী ও জুনিয়রদের মাঝে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। ব্যস্ততম এই সড়কে যাতে আর কোনো অকালমৃত্যু না হয় সেজন্য বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সম্মুখে সিএনজি অটোরিকশার ফিটনেস এবং চালকের লাইসেন্স আছে কিনা যাচাই-বাছাই করেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে আমরা ৫০টি লাইসেন্স ও ফিটনেস বিহীন সিএনজি শনাক্ত করে। এসময় শিক্ষার্থীরা শনাক্তকৃত সিএনজিগুলোর চাবি ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সকার্ড জব্দ করে রাখে।

সরেজমিনে দেখা যায়,শিক্ষার্থীরা চাবি জব্দ করে রাখার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের অভিমুখ সড়কে অনেক সিএনজি জড়ো হয়ে যায়। যার কারণে ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়। পরে রাউজান-রাংগুনিয়া থানার সার্কেল অফিসার মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবিরের মারফতে আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে উঠে আসে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এব্যাপারে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ উপ-পরিচালক হুমায়ুন কবির জানান, শিক্ষার্থীরা কোনো প্রকার ভাংচুরবিহীন শৃঙ্খলার সাথে সিএনজির বৈধতা যাচাই করছে। মুঠোফোনে রাউজান-রাংগুনিয়া থানার সার্কেল অফিসার কামাল হোসেন সিএনজির বৈধতা যাচাই করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সম্মুখে প্রতিদিন অস্থায়ী চেকপোস্ট বসানোর মৌখিক আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা সিএনজি চালকদের চাবি স্বহস্তে ফিরিয়ে দেয়।

এসময় রাউজান-রাংগুনিয়া সড়কের ট্রাফিক পুলিশ মো: কায়েস শিক্ষার্থীদের সম্মুখে সিএনজি চালকদের লাইসেন্স কার্ড ছাড়া সড়কে বের না হওয়ার ঘোষণা দেন। পাশাপাশি পুলিশের কাছ থেকে টোকেন নিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ এবং বিআরটিসি থেকে কিভাবে ও কতদিনের মধ্যে লাইসেন্স নেয়া যায় সেব্যাপারে চালকদের পরামর্শ দেন।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৪র্থ বর্ষের ফরহাদ শাহী আফিন্দী জানান- আমরা গতকাল ও আজকে চালকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য আধা ঘণ্টা চুয়েট গেইটে অবস্থান নিই। সিএনজির ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স যাচাই করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই সড়কের ৯০ শতাংশ গাড়ির ফিটনেস ও চালকের লাইসেন্স নাই। যেহেতু এই সড়কে চুয়েটিয়ানদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না, তাই ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা অহিংস কার্যক্রম শুরু করেছি। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী চালককে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং এই সড়কে কোনো লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চলতে পারবে না।

এর আগে দুপুরে শিক্ষার্থীরা চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রফিকুল আলম বরাবর বিভিন্ন দাবিদাওয়া সংবলিত স্বারকলিপি প্রেরণ করে। স্বারকলিপিতে উল্লেখিত দাবীসমূহ হলো: ঘাতক চালককে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে সঠিক বিচারের আওতায় আনা,আজকে থেকে শুরু করে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে ড্রাইভিং লাইসেন্সবিহীন চালকের গাড়ি চালানাে এবং ফিটনেসবিহীন পরিবহন চলাচল চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কে সম্পূর্ণরুপে বন্ধ,সড়কে পর্যাপ্ত পরিমাণ গতিরােধক এবং জেব্রাক্রসিং এর ব্যবস্থা,কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে শুরু করে লিচুবাগান পর্যন্ত রাস্তার উভয় পাশে পর্যাপ্ত পরিমাণ আলাের ব্যবস্থা করা,চুয়েট থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত সকলের চলাচলের জন্যে নতুন বাস সার্ভিস আগামী এক সপ্তাহের মাঝে চালু করা, চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করণের লক্ষ্যে দৃশ্যমাণ পদক্ষেপ আগামী ১৫ দিনের মধ্যে গ্রহণ করা।

স্বারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা দাবিসমূহের অগ্রগতি সম্পর্কে জানার জন্যে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি(রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের উপস্থিতিতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রসাশন, উপজেলা পরিষদ এবং সি এন জি অটোরিক্সা,বাস, ট্রাক মালিক সমিতির সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সভার আয়ােজন করার আল্টিমেটাম দেন।

উল্লেখ্যঃ গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় তাহমিদ ও তার তিনবন্ধু মর্মান্তিক এক সিএনজি দুর্ঘটনার শিকার হন। ঘটনা স্থলে তার বন্ধু ফয়সাল রিদোয়ান কবির নামক একজনের মৃত্যু হয়। তাহমিদ সহ তার বাকি দুইজন আহত বন্ধুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারের নিবিড় পরিচর্চায় রাখা হয়। গত দুইদিন ধরে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা দিয়ে সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টায় তাহমিদ চৌধুরী পরপারে পাড়ি জমান।