ব্রেকিং নিউজ

“চুয়েটের ভাইদের এই হেল্প কোনোদিনও ভুলবো না”

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

তৌহিদুল মেরাজ। গতকাল এসেছিলেন চুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে। এখানে এসে চুয়েটের সিনিওর শিক্ষার্থীদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়েছেন তিনি। তার অনুভূতি ব্যক্ত করেছে ফেসবুকে।

তার পোস্ট হুবহু নিচে তুলে ধরা হল।

সবাই তো ভাইদের থাকা, খাওয়া,পরীক্ষার রুম/বিল্ডিং খুজে দেওয়ার ব্যাপারে বললো।হলের ভিতরের কিছু কথা বলি,যেগুলো পরীক্ষার দিন সকালে যারা আসছে কিংবা আগের রাতে আসছে তাদের অনেকেরই অজানা!

১১ তারিখ রাত ৩:৪৫ মিনিটে বাস চুয়েট গেইটে থামলো।বাস থেকে নেমে গেইট দিয়ে ঢুকে অচেনা রাস্তা দিয়ে হাটতে হাটতে গোল চপ্তর গেলাম! তারপর সেন্ট্রাল মসজিদ পর্যন্ত গেলাম! ভাবলাম বাকী রাত টুকু মসজিদের বাইরে দাড়িয়ে ই কাটিয়ে দিবো (মসজিদ তালা দেয়া ছিলো তাই ভিতরে ঢুকতে পারিনি)।

হঠাৎ এক বড় ভাই এতো রাতে ওনার হলে নিতে আসলো। এত রাতে হয়তো নিজের আপন ভাইও এতো টা হেল্প করবেনা।রাত ৩:৪৫ ঘুম ছেড়ে কেউই উঠতে চাইবে না! অথচ ঐ সময়ে অনেক বড় ভাইকে দেখলাম বাস থেকে অনেক ছাত্র যারা নামতেছিলো,একেক বড় ভাই একেক জনকে নিয়ে যাচ্ছে ওনাদের হলে।

তারপর আমাদেরকে হলে নিয়ে নিজেদের বিছানায় জায়গা করে দিলো এটা বলে যে সারা রাত জার্নি করে আসছো,এখন ঘুমাও। ওনারা বাকী রাত টুকু নির্ঘুম ই কাটিয়ে দিলেন।

পরদিন সকাল থেকেই দেখলাম ভাইয়েরা কতোটা ছুটাছুটি করে বিভিন্ন জায়গা থেকে খাটের ফ্রেম,তোশক, বালিশ এনে রুমে আরও শোয়ার জায়গা তৈরি করতেছে আমাদের মতো ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জায়গা করে দেওয়ার জন্য। আবারও রাতে নিজেদের বিছানা ছেড়ে দিয়ে আমাদের যেন একটুও কোনো অসুবিধা না হয়,সেইজন্য সর্বোচ্চ টা দিয়ে চেষ্টা করলেন।

আর সবচেয়ে বেশী অবাক হয়েছে সেসব ভর্তি পরীক্ষার্থীরা,যারা মাঝ রাতে ঘুম থেকে উঠে একটু বারান্দায় অন্তত একটি বারের জন্যও গিয়েছে! কারণ সেই দৃশ্য টা আসলেই চোখে পানি আসার মতো,যেই ভাই দের বিছানায় আমরা আরামের ঘুম ঘুমোচ্ছি, সেই ভাইয়েরা নিজেদের বিছানা ছেড়ে দিয়ে বারান্দায় সারা রাত নির্ঘুমে কাটিয়েছে,কেউ কেউ বারান্দার চেয়ারে বসে একটু হেলান দিয়ে বাইরে ঘুমোচ্ছে।

এটা দেখে আসলেই বলতে বাধ্য হই,হয়তো নিজের আপন ভাইও এতোটা নিঃস্বার্থভাবে সেক্রিফাইস করবেনা।জীবনে প্রথম দেখলাম অপরিচিত মানুষ গুলোর জন্য বিন্দুমাত্র স্বার্থ ছাড়া,একদম নিঃস্বার্থভাবে এতোটা হেল্প করতে…

পরীক্ষা দিয়েছি,চান্স পাই বা না পাই,অন্তত চুয়েটের ভাইদের এই হেল্প কোনোদিনও ভুলবো না,আজীবন মনে রাখবো নিঃস্বার্থভাবে এতোটা হেল্প করা এই মানুষগুলোকে…

#Tahmid.13.Oct.19