ব্রেকিং নিউজ

কেমন হতে পারে ‘চুয়েট লেক’।। মতামত

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

চুয়েট লেক (সংগৃহীত ছবি)

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সবুজ সৌন্দর্য্য ও প্রাকৃতিক অপরুপ দৃশ্য সবসময়ই প্রকৃতিপ্রেমীকে আকর্ষিত করে। তবে এ সৌন্দর্য আরও বাড়াতে পারে অবহেলায় পড়ে থাকা ‘চুয়েট লেক’।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে ভেতরে সোজা প্রায় ১৫গজ সামনে রাস্তার ডান থেকে শুরু হয়ে গোলচত্বর গিয়ে ডানে মোড় নিয়েছে লেকটি।এরপর এটি অডিটোরিয়ামের কিছু পর গিয়ে শেষ হয়েছে। দেখা যায়, লেকটি বহুদিন সংস্কারের অভাবে বিভিন্ন গাছ-গাছালি জন্মেছে। লেকটিতে খুব একটা পানি না থাকলেও কিছু অংশে পানি দেখা যায়। তবে পানি বেশ নোংরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বর্ধনের পাশাপাশি লেকটির সংস্কার প্রকল্প হতে পারে শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের জন্য মনোমুগ্ধকর বিনোদন কেন্দ্র। প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা যেতে পারে৷

প্রথমত লেকটির মধ্যে যেসব গাছ-গাছালি ও জঙ্গল পরিলক্ষিত হচ্ছে সেসব পরিষ্কার করা। লেকটির খনন কাজ শুরু করা যেতে পারে। কারণ লেকটির কোনো জায়গায় দেখা যায় পানি থাকে আবার কিছু জায়গায় পানি থাকে না।

সংগৃহীত (নমুনা ছবি)

লেকের পাড় সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব ও সৌন্দর্যবর্ধক গাছ রোপন করা যেতে পারে৷ এতে করে লেকের সৌন্দর্য বহুগুনে বৃদ্ধি পাবে। লেকের খননের ক্ষেত্রে ড্রেজিং করা যেতে পারে।

পানির গভীরতা মোটামুটি পর্যায়ে থাকলে সেখানে বিনোদনের উৎস হিসেবে বিভিন্ন বোট চালানো যাবে। নতুন প্রশাসনিক ভবন থেকে গ্যালারি পর্যন্ত রাস্তার ডানে বেশ জায়গা রয়েছে।সেখানে কিছু বসার জায়গা থাকলেও সেগুলো অনেক পুরোনো হওয়ায় অনেক গুলিতেই আগাছার আস্তরণ দেখা যায়। তাই এসব জায়গায়যদি পরিকল্পনা মাফিক নতুন করে দৃষ্টিনন্দন বসার জায়গা করা যায় তাহলে জায়গাটির আমূল পরিবর্তন আসতে পারে। এছাড়া বসার জায়গার উপরে ছাউনির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।

লেকটি যেহেতু কিছু স্থাপনা ও বিল্ডিংকে পৃথক করেছে তাই লেকটির প্রকল্পের আওতায় নির্ধারিত জায়গা নির্বাচন করে সেখানে দৃষ্টিনন্দন পুল/ব্রীজ স্থাপন করা যেতে পারে। বর্তমানে চুয়েটে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের কাজ চলছে যা কিছুদিন আগে শুরু হয়েছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরের উত্তর দিকের এলাকার সাথে যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও সুন্দর করতে পারে লেকের উপর যদি কোনো পুল/ব্রীজ স্থাপন করা হয়৷

এছাড়াও এতে করে নতুন প্রশাসনিক ভবন ও বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট থেকে সহজেই পিএমই বিল্ডিং, শহীদ মোহাম্মদ শাহ হল ও বঙ্গবন্ধু হল বর্ধিতাংশে যাতায়াত সহজ হবে।প্রকল্পের আওতায় এখানে মাছ চাষের দিকটি আনা যেতে পারে৷

খননকাজ সম্পন্ন হলে সেখানে পানির গভীরতা বাড়বে, এছাড়া লেকের পানি পরিষ্কার হলে লেকটি মাছ চাষের অনুকূল হবে। তবে সর্বপরি পরিকল্পনামাফিক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে পারলেই চুয়েটের এই লেককে দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশ উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

লেখক
সাইদ চৌধুরী
ডিপার্টমেন্ট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, চুয়েট’১৭