ব্রেকিং নিউজ

উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন অজানা বিষয়ঃ পর্ব ১

সুপ্রভাত সবাইকে,
আশা করি সবাই ভালো আছো। আমার মতে উচ্চশিক্ষায় আমাদের পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হচ্ছে সঠিক তথ্য না জানা। আরো ভালোভাবে বলতে গেলে ভুল তথ্য জানা! কারণ আমার মতে কোন তথ্য না জানার থেকে ভুল তথ্য জানা এটা আরো ক্ষতিকর।

প্রায়শই আমাদের সামনে এই বিষয়গুলাকে ভীতিকর এবং অনেক কঠিন এমন একটা ভাবে উপস্থাপন করা হয়, যার অধিকাংশে ভুল! এই আলোচনা সিরিজে আমি মূলত অ্যাপ্লিকেশান বিষয়ক যাবতীয় সব
প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো।

তবে আশার কথা হচ্ছে গত এক সপ্তাহে প্রায় সিনিয়র জুনিয়র মিলে আমাকে প্রায় ১৫+ চুয়েটিয়ানদের নক করেছে যারা অলরেডি GRE, TOEFL দিয়ে দিয়েছে এবং সামনে অ্যাপ্লাই করবে। আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে তার মধ্যে ১৩ ব্যচের ৩-৪ জন ছিল!

নিঃসন্দেহে, এটা খুব উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। আশা করি,
সামনের বছর আমরা এখানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক
চুয়েটিয়ানদের দেখতে পাবো। আমার এই আলোচনা সিরিজ মূলত তাদের জন্যই। আলোচনার সুবিধার জন্য আমি যথারীতি সিরিজটাকে কয়েকটি পর্বে ভাগ করে লিখবো।

আজকে আমি অ্যাপ্লিকেশান বিষয়ক সাধারণ জিজ্ঞাসাগুলা নিয়ে লিখবো।
সুতরাং, আর কথা না বাড়িয়ে শুরু করি…

______________________
সাধারন জিজ্ঞাসাঃ

প্রশ্ন ১ঃ অ্যাপ্লাই করতে কি কি লাগে?

উত্তরঃ আমেরিকান ভার্সিটিগুলা মূলত একজন ছাত্রকে সামগ্রিকভাবে বিচার করে। সামগ্রিকভাবে বলতে সে ছাত্র হিসেবে কি রকম (মানে তার একাডেমিক রেসাল্ট), তার টেস্ট স্কোর কি রকম, সে কতটুকু Passionate, ব্যক্তি হিসেবে সে কি রকম , তার সম্পর্কে অন্যদের (শিক্ষকদের) মতামত এইসব দিককে সামগ্রিকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অ্যাপ্লাই করতে যে জিনিসগুলা অবশ্যই লাগবে সেগুলা হলোঃ
১। Academic Transcript and Provisional Certificate or Certificate
এখানে বলে রাখি যাদের অ্যাপ্লাই করার সময় ট্রান্সক্রিপ্ট না পেলে Grade Sheet দিয়েও আবেদন করা যাবে। এক্ষেত্রে এডমিশন পাওয়ার পর Transcript পাঠালেও চলবে।

২। Test Score (GRE and TOEFL/IELTS Score)

৩। Statement of Purpose

8। Letter of Recommendation

প্রশ্ন ২ঃ কোন সেশনে অ্যাপ্লাই করবো?

উত্তরঃ এখানের অধিকাংশ ভার্সিটিতে অ্যাপ্লিকেশান সেশন ৩ টা। Fall, Spring and Summer. আমাদের অনেকে ভুল ধারনা হচ্ছে শুধুমাত্র Fall Session এ অ্যাপ্লাই করা যায়। একারনে আমরা একটা
ফল সেশন মিস হয়ে গেলে পরবর্তী ফল সেশনের জন্য
এক বছর বসে থাকি।

আসলে এটা শুধু শুধু সময়ের অপচয় ছাড়া আর
কিছু না। কারো যদি সব রেডি থাকে, তাহলে অন্য সেশনগুলাতেও আবেদন করে ফান্ড পাওয়া যায় কারন গ্রাজূয়েট স্কুল এবং প্রফেসররা মোটামুটি সব সেশনে স্টুদেন্ট নিয়ে থাকে, যদিও ফল সেশনে Student Enrollment and Funding Opportunity
সবচেয়ে বেশি থাকে।

প্রশ্ন ৩ঃ কখন অ্যাপ্লাই করবো? আমি ডিসেম্বরে GRE দিব। আমি
কি ফল সেশন ধরতে পারবো?

উত্তরঃ সাধারনত ফল সেশনের জন্য অ্যাপ্লিকেশান সময় শুরু হয় নভেম্বর থেকে যেটা ক্ষেত্রবিশেষে এপ্রিল -মে এমনকি জুন পর্যন্ত চলে। স্প্রিং এর জন্য সচরাচর জুন থেকে অক্টোবর। তাই এই সময়ের মধ্যেই আবেদন করতে হবে।

এখানে বলে রাখা ভালো যে, প্রত্যেকটা ভার্সিটির আলাদা অ্যাপ্লিকেশান ডেডলাইন থাকে। আমাদের অনেকের একটা ভুল ধারণা থাকে যে, ফল সেশনের জন্য ডিসেম্বরের মধ্যেই আবেদন করে ফেলতে হবে। মুলত ডিসেম্বর এ ডেডলাইন আছে এরকম ভার্সিটির সংখ্যা হাতে গোনা কয়েকটা, যেগুলা অনেক উচু রাঙ্কিং এর। অধিকাংশ (৮০%-৮৫%) ভার্সিটিতে February –
March পর্যন্ত ডেডলাইন থাকে । আবার কোন কোন
ভার্সিটিতে সেটা আরো পরে। যেমন আমার ভার্সিটিতে ফল সেশনের জন্য অ্যাপ্লিকেশান ডেডলাইন হচ্ছে জুন ১।

তবে কোন কোন ভার্সিটির দুইটা ডেডলাইন থাকে। একটা হচ্ছে নরমাল অ্যাপ্লিকেশান ডেডলাইন আর পরেরটা স্ক্লারশিপ এর ডেডলাইন। স্ক্লারশিপ এর জন্য বিবেচিত হওয়ার জন্য অবশ্যই সেই স্ক্লারশিপ এর ডেডলাইন এর আগে অ্যাপ্লাই করতে হবে।

তাই কোন ভার্সিটিতে অ্যাপ্লাই করার সময় এই জিনিসগুলা খুব ভালোভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে। তবে অধিকাংশ ভার্সিটিতে এই ডেডলাইনটা সচরাচর February 15 এর মধ্যে হয়। তাই ডিসেম্বরে GRE দিয়েও অনায়াসে ফল সেশন ধরা যাবে।

প্রশ্ন ৪ঃ Master’s না PhD কোনটাতে অ্যাপ্লাই করবো?

উত্তরঃ এটা পুরোপুরি তোমার নিজের উপর। তুমি এ ভালো জানো তুমি নিজেকে ১০ বছর পর নিজেকে কোন জায়গায় দেখতে চাও। তাই সে অনুসারে সামনে এগুবে। তবে কারো যদি আমেরিকান ডিগ্রি নেওয়ার পর জব করার ইচ্ছে থাকে তাহলে মাস্টার্স করে জব করাই বেটার আর একাডেমিক লাইনে আসতে চাইলে তো পিএইচডি করতেই হবে। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

তাই ভেবে চিন্তেই সামনে অগ্রসর হওয়া উচিত। আর পিএইচডি করার মত যথেষ্ট ধৈর্য এবং শ্রম দিতে পারবা কিনা সেটাও ভেবে দেখা উচিত। তবে রিসার্চ ল্যাবে কাজ করতে ভালো লাগলে আমার পরামর্শ অবশ্যই পিএইচডি। আর মাস্টার্স এর তুলনায় পিএইচডি ফান্ড পাওয়াটা তুলনামুলক সহজ।

প্রশ্ন ৫ঃ আমি কি Direct PhD তে অ্যাপ্লাই করতে পারবো Bachelor করে?

উত্তরঃ হ্যাঁ। এখানে Bachelor করে Direct PhD তে অ্যাপ্লাই করা যায়। আমাদের অনেকের ভুল ধারনা থাকে PhD করার আগে Master’s করা লাগে। কিন্তু অন্তত আমেরিকার জন্য এটা সত্য না।

তাই কারো যদি ভবিষ্যতে পিএচডি করার ইচ্ছে থাকে তাহলে আমার পরামর্শ হল Bachelor করেই সরাসরি PhD এর জন্য অ্যাপ্লাই করা। আমি এটাই করছি।

প্রশ্ন ৬ঃ স্টাডি গ্যাপ কি কোন সমস্যা?

উত্তরঃ আমাকে প্রায়শই বড় ভাইয়ারা এই প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে। আসলে এখানে স্টাডি গ্যাপ কোন সমস্যাই না। এখানে যেকোনো বয়সে শিক্ষাগ্রহন করাকে খুব ভালোভাবে Appreciate করা হয়।

প্রশ্ন ৭ঃ আমার সিজি ৩.০০ এর নিচে। আমি কি অ্যাপ্লাই করতে পারবো?

উত্তরঃ যদিও এই প্রশ্নের উত্তর আমি অনেকবার দিয়েছি। আমার মতে লো সিজিধারীদের জন্য আমেরিকা ভালো একটা অপশন। তোমার যদি সিজি নূন্যতম ৩.০০ থাকে তাহলে তুমি এখানের মোটামুটি সব ভার্সিটিতে আবেদন করতে পারবা। আর ৩.০০ এর নিচে থাকেলও ২৫-৩০% ভার্সিটিতে আবেদন করতে পারবে।

এখানে সিজি ৩.০০ এর উপরে থাকলে সেটাকে ভালো
হিসেবে দেখা হয়। তাই আমার মতে আমাদের সিজি নিয়ে এই অমুলক হতাশা থেকে বের হয়ে আসা উচিত। আমার মতে আমরা অকারনে অনেক ব্যপার নিয়ে শুধু শুধু হতাশ থাকি যেটার কোনমানে হয় না।

প্রশ্ন ৮ঃ আমার ব্যাকলগ আছে । আমি কি অ্যাপ্লাই করতে পারবো?

উত্তরঃ আমাদের অনেকের ধারনা হচ্ছে ব্যাকলগ খেলে
উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন বুঝি শেষ। তাই যাদের ব্যাকলগ থাকে, তারা উচ্চশিক্ষার কথা চিন্তাই করে না। আসল ব্যাপার হচ্ছে, ব্যাকলগ কোন ব্যাপার না। তুমি যদি এই ব্যাপারটা (মানে কেন ব্যাগলগ এবং
পরে সেটা কিভাবে overcome করেছ) তোমার Statement of Purpose এ তুলে ধরতে পারো তাহলে এটা কোন সমস্যাই না।
(দ্বিতীয় পর্ব পেতে আমাদের সাথেই থাকুন)

সংগ্রহেঃ সৈয়দ তাহমিদ হোসেন

২৮/১২/১৮