ব্রেকিং নিউজ

উচ্চমূল্যের কারণে চুয়েটগেইটের সামনের নেওয়াজ রেস্তোরাঁয় শিক্ষার্থীদের তালাঃ প্রতিবাদে রেস্তোরাঁ মালিকপক্ষের ধর্মঘট


রাফাত হাসান দিগন্তঃ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) প্রধান ফটকের সামনের খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রেখেছে মালিকপক্ষ। এতে করে প্রাত্যহিক খাবার খেতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গতকাল বিকেল পাঁচটায় শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখের নেওয়াজ রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানী হাউজের মালিকপক্ষের বাদানুবাদ শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা একপর্যায়ে রেস্তোরাঁটিতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর জের ধরে আশেপাশের অন্যান্য খাবার দোকানগুলো বন্ধ করে দেয় মালিকপক্ষ।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত চুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রকিবুল ইসলাম রনি চুয়েটনিউজ২৪.কমকে বলেন, চুয়েটের সামনের খাবারের দোকানগুলো দীর্ঘদিন যাবত অস্বাস্থ্যকর খাবার চড়া দামে বিক্রি করে আসছে। কিছুদিন আগে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মালিকদের সাথে বৈঠকে বসি। এসময় আমরা দুইপক্ষের কথা বিবেচনা করেই একটি মূল্যতালিকা প্রস্তাব করি এবং তারা পরিবর্তনের আশ্বাস দেন। অতঃপর আজ আমরা নেওয়াজ রেস্তোরাঁতে খেতে গিয়ে দেখতে পাই মূল্যতালিকা পরিবর্তন হয় নি।

রনি আরো বলেন, এ সম্বন্ধে জানতে চাইলে মালিকপক্ষ দাবি করেন এসব খাবার পাহাড়তলির ভিআইপিদের জন্য নির্ধারিত। চুয়েটের শিক্ষার্থীরা মাঝে মাঝে এসে স্বাদ পরিবর্তন করে যাবে। এসব কথা শুনে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ করলে তারা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা নেওয়াজ রেস্তোরাঁয় তালা ঝুলিয়ে দেয়।

খাবারের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়া শিক্ষার্থী রিফাত সালমান প্রতিবেদককে বলেন, দীর্ঘদিন যাবত চুয়েটগেইটের সামনের দোকানগুলোর খাবার খেয়ে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করে সকল দোকান বন্ধ করে দেওয়ায় আমি রাতের খাবার খেতে গিয়ে ঘুরে এসেছি। অতঃপর আমি কিছু শুকনো খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেওয়াজ রেস্তোরাঁ ও বিরিয়ানী হাউজের মালিক আনোয়ার হোসেন বলেন, কিছুদিন আগে দাম কমানোর ব্যাপারে আমরা শিক্ষার্থীদের সাথে বৈঠকে বসেছি। কিন্তু তারা আমাদের গালিগালাজ করে চলে যান। আজ বিকেল পাঁচটায় বেশকয়েকজন শিক্ষার্থী এসে আমার দোকানে তালা ঝুলিয়ে যায়। এর প্রতিবাদে চুয়েটের সামনের সব রেস্তোরাঁ মালিকরা দোকান বন্ধ করে দেন। এ ব্যাপারে আমরা স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলবো। সে পর্যন্ত সমস্ত রেস্তোরাঁগুলো বন্ধ থাকবে।

এদিকে চুয়েটের উপ-ছাত্রকল্যান পরিচালক অধ্যাপক ড. জি. এম. সাদিকুল ইসলাম চুয়েটনিউজ২৪.কমকে বলেন, ক্যাম্পাসের বাইরের খাবারের দোকানগুলোর তদারকি সাধারণত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এখতিয়ার বহির্ভূত। তবে প্রয়োজন হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর ডাইনিং এবং ক্যান্টিনগুলোর খাবারের মানোন্নয়নে শিক্ষার্থীদের সাথে বসা যেতে পারে।

তারিখঃ ২৫/০৭/২০১৮ ইং।