ব্রেকিং নিউজ

আন্তর্জাতিক সম্মেলনে সেরা ৫টি গবেষণাপত্রের মধ্যে ৩টিই চুয়েটের

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) গত ৭ থেকে ৯ ফেব্রুয়ারী  তিন দিনব্যাপী ৫ম “ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ফর সাসটেইন্যাবল ডেভেলপমেন্ট (আইসিসিইএসডি ২০২০)” শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে মোট ৫টি কী-নোট সেশন এবং ৩২টি টেকনিক্যাল সেশনে দেশ-বিদেশের গবেষকদের মোট ২০১টি গবেষণা পত্র উপস্থাপিত হয় এবং সেরা ৫টি গবেষণা পত্রকে পুরস্কৃত করা হয়। যার মধ্যে তিনটিই ছিল চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের।

স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে সেরা গবেষণাপত্র এর তকমা ছিনিয়ে নিয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক জি এম সাদিকুল ইসলাম এবং সাবেক শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সরকার, লিভারপুল জন মুরস ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মনোয়ার সাদিক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী শুবের।

তাদের গবেষণার বিষয় ছিল আগুনে না পুড়িয়েও শিল্পর্বজ্য ব্যবহার করে কিভাবে ইট  তৈরি করা যায়।

মাটিকে পুড়িয়ে ইটভাটায় যে ইট তৈরি হয় তাতে পরিবেশের উপর অনেক বিরুপ প্রভাব ফেলে ও প্রচুর পরিমানে কৃষিজমি নষ্ট করে। এ কারণে বাংলাদেশে সরকারী কাজে আগামী ২০২৪-২৫ সালের পর আর কোন মাটির তৈরি ইট ব্যবহার করা যাবে না। এ লক্ষে বিকল্প উপায় তৈরি করাই এ গবেষনার মূল উদ্দেশ্য।  অপর দিকে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যু কেন্দ্র সেই সময়ে ৮৬৫,০০০ মেট্রিক টন ফ্লাই এ্যাশ তৈরি করবে। এ ছাড়াও রড তৈরির কারখানা হতে দুই ধরনের স্লাগ(উপজাত) তৈরি হয় যার ব্যবস্থাপনা খুব কষ্টসাধ্য ও ব্যয়সাপেক্ষ। গবেষনাটিতে দেখানো হয় উক্ত বিকল্প বর্জ্য পদার্থগুলি দিয়ে মাটির তৈরি ইট হতেও অনেক ভাল মানের ইট তৈরি করা সম্ভব। গবেষনাটি যৌথভাবে সম্পাদন করে চুয়েট এর পুরকৌশল বিভাগ ও ইংল্যান্ডের লিভারপুল জন মুরস বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগ।

ভূমিধস বা অন্য যেকোনো ভূতাত্ত্বিক দূর্যোগ যদি আগে থেকেই অনুমান করা যেত তাহলে তা একদিকে যেমন অনেক প্রাণ বাচাতো তেমনি আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও কমিয়ে আনা যেত বহুগুন। এ চিন্তা ভাবনা থেকেই চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক মোঃ আফতাবুর রহমান ও নাফিসা তাবাসসুম “প্যারামেট্রিক সেনসিটিভিটি ইন লার্জ ডিফর্মেশন এনালাইসিস বাই স্মুথড পার্টিকেল হাইড্রোডায়নামিক্স(এসপিএইচ)” শিরোনামে একটি গবেষণাপত্র সম্পাদনা করেন। যেটি এবারের আইসিসিইএসডিতে জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সেরা গবেষণাপত্র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।
এই গবেষণাপত্রের আরো একটি দিক ছিল ভূমিধস গবেষণায় বহুল প্রচলিত ফাইনাইট এলিমেন্ট মডেল এর সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আরো নির্ভূলভাবে ভূমিধস এর সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণ।

টেকসই নগর ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রয়োগের মাধ্যমে চট্টগ্রাম এর খালগুলোকে কিভাবে ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায় তার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ সেরা গবেষণা পত্র এর সম্পাদক হয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল  বিভাগের শিক্ষক  সুদীপ কুমার পাল এবং একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ মেহেদী হাসান মাসুম। এই গবেষণার মাধ্যমে চট্টগ্রাম এর জলাবদ্ধতাসহ সংশ্লিষ্ট সমস্যার সমাধান দেওয়া সম্ভব হবে।

তাদের এই অর্জনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলমও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান কাজ হলো গবেষণা করা। নতুন নতুন গবেষণা এবং গবেষণালব্দ জ্ঞান সবার মধ্যে তুলে ধরা। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণায় এগিয়ে যাচ্ছে। যার ধারাবাহিকতায় এ অর্জন। আমরা চুয়েট পরিবার তাদের এই অর্জনে অত্যন্ত খুশি।