ব্রেকিং নিউজ

আজ চুয়েটের সুবর্ণজয়ন্তী

মনির হোসেন:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) গৌরবময় পথচলার ৫০ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ ৬ ডিসেম্বর শুক্রবার দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এম.পিবৃন্দ। বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম. নাছির উদ্দিন, বাংলাদেশ রেলপথ সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং চট্টগ্রাম-০৬ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এ.বি.এম. ফজলে করিম চৌধুরী এম.পি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম । সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের ভিভিআইপিগণ, মন্ত্রী পরিষদ সদস্যগণ, এমপিগণ, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে পাশকৃত বিপুল প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী, চুয়েট পরিবারের বর্তমান সদস্যগণ মিলে প্রায় ১০ হাজার লোকের মিলনমেলা বসবে।

সুবর্ণজয়ন্তীর জমকালো আয়োজনে থাকবে- আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে নগরজুড়ে আনন্দ র্যা লি, সন্ধ্যায় আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান, আইইবি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসে যাত্রা, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান, চুয়েটের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের সমš^য়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আমন্ত্রিত শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নৈশভোজ, ফায়ারওয়ার্কস, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী জেমস ও নগর বাউলের জমজমাট কনসার্ট প্রভৃতি।

সুবর্ণজয়ন্তীতে অংশ নিতে আসা সাবেক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন।

এদিকে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ৪র্থ সমাবর্তন ৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ২ হাজার ১৪৮ জন গ্র্যাজুয়েট এবং ৮৩ জন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েটসহ মোট প্রায় ২ হাজার ২৩১ জন ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সমাবর্তন ডিগ্রী প্রদান করা হয়।

এবারের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গত চার বছরের সর্বোচ্চ সিজিপিএধারী ৪ জনকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় স্বর্ণপদক’ প্রদান করা হয়। তারা হলেন- ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে পাসকৃত তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী ই.এম.কে. ইকবাল আহামেদ, একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে পাসকৃত শিক্ষার্থী রুবায়া আফসার, ২০১৬-১৭ শিক্ষাবষে পাসকৃত শিক্ষার্থী সঞ্চয় বড়–য়া এবং ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পাসকৃত কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ রাশেদুর রহমান।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোঃ আবদুল হামিদ। এতে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. এ.কে. আজাদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম । এছাড়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরী।

নবীন গ্র্যাজুয়েটবৃন্দের উদ্দেশ্য গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মোঃ আবদুল হামিদ বলেন, স্বাধীনতার সংগ্রামের চাইতেও দেশ গড়ার সংগ্রাম বেশি কঠিন। দেশ গড়ার সংগ্রামে আরো বেশি আত্মত্যাগ , আরো বেশি ধৈর্য্য, আরো বেশি পরিশ্রম দরকার।এইক্ষেত্রে জাতির পিতার আহ্বানকে বুকে ধারণ করে দেশ গড়ার কাজে ব্রতী হতে হবে তোমাদের।

এছাড়া ডিগ্রীপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিরলস পরিশ্রম ও সাধনা করে ডিগ্রী প্রাপ্যতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সমাবর্তন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি মাইলফলক, একইসাথে স্নাতকদের জন্যও একটি স্মরণীয় দিন। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের দীর্ঘ শ্রম ও সাধনার ফলে অর্জিত ডিগ্রীর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায়, অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ও তার আপন কর্মকান্ডের মূল্যায়ন করতে পারে।

২০১২সালের অক্টোম্বর থেকে ২০১৬ সালের ফেব্রæয়ারি পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ,স্নাতকোত্তর ও পিএইডি ডিগ্রী অর্জনকারীরা সমাবর্তনে অংশ নেন।

সমাবর্তন ও সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে কয়েকদিন আগে থেকেই বর্ণিল রুপে সাজিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে বিভিন্ন আলোকসজ্জা শোভা পাচ্ছে।
তাং: ৬/১২/২০১৯